দৃষ্টির অগোচরে পর্ব – ০১ || জিসান আহম্মেদ রাজ

Person
Jisan Ahmed Raj(রাইসার আব্বু)

ম্যাসেন্জারে ঢুকতেই আমার বউরের তিন মিনিটের একটা ভিডিও দেখতে পেলাম!
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটা ছেলের সাথে অশ্লীল কাজ করছে!
এসব আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে ।নিজের অজান্তেই চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল।
হাতটা থরথর করে কাঁপছে!
ফোনটা হাত থেকে পড়ে গেল।
ভিডিওটা দেখার সাথে সাথে পায়ের নিচে মাটি সরে যেতে লাগল। শরীরটা ঘামতে লাগল।
ভিডিওতে মেয়েটা আমার বউ না শুধু, আমার ভালবাসার মানুষ। আমার প্রথম এবং শেষ ভালবাসা। ছোট থেকেই একে অপরকে ভালবাসি।
ভালবেসে একে অপরকে বিয়ে করি। এখনো কথাকে ঘরে তুলে নেয়নি।
ওকে এতটাই ভালবাসতাম কখনো ছুঁয়ে দেখিনি। আমার ভালবাসা পবিএ ছিলো।প্রতিরাতে নামায পড়ে কাঁদতাম। ওকে পাওয়ার জন্য কত কষ্টটাই না করেছি। এক নজর দেখার জন্য বৃষ্টিতে ভিঁজে রাস্তায় দাঁড়ায় থাকতাম। কখনো, ভাবিনি আমার সহজ সরল ভালবাসার প্রতিদান এভাবে পাবো ! শরীর টা ঘামছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
বুক ফেঁটে কান্না আসছে! আমার অবস্থা দেখে অফিসের পিয়ন, এক গ্লাস পানি এনে টেবিলে রেখে বললো” স্যার আপনার কিছু হয়েছে?”
নাহ্ কিছু হয়নি তুমি যাও বলে পানিটা খেয়ে নিলাম।
চুপ করে বসে আছি, হঠাৎ ফোনটা ক্রিং ক্রিং করে বাজতে লাগল চেয়েই দেখি, কথার মা ফোন দিয়েছে।
ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে বলল হ্যালো রাজ বাবা তুমি কি অফিসে?
হ্যাঁ মা আমি অফিসে! কেন কোন সমস্যা?
নাহ্ তেমন কিছু না আমরা তো বাসায় নেই তুমি যদি বিকালে আমাদের বাসায় যেতে, তাহলে ভালো হত।
কারণ কথা বাসায় একা, আর আমাদের বাসায় আসতে রাত আটটা বা নয়টা বাজতে পারে একটা পার্টি শেষ করে বাসায় যাবো।
কথাকে বলছিলাম, কথা বলল তার নাকি শরীর খারাপ!
“আচ্ছা মা আমি বিকেলে অফিস শেষ করে আপনাদের বাসায় যাবো “কথাটা বলে ফোনটা রেখে দিলাম।
মনে মনে স্হির করে নিলাম, আজকেই কথাকে এই ভিডিওটার কথা বলবো। বলবো কেন আমার সাথে মিথ্যা প্রেমের নাটক করলো। আমার ভালবাসার কী কোন মূল্য নেই! কেন করলো এমন আমার সাথে। ভাবতে পারছিনা হৃদয় কাঁচের টুকরার মতো ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।আমাকে বললেই তো পারতে যে,আমাকে তাঁর পছন্দ না, আমি কষ্টকে চাঁপা দিয়ে হাসি মুখে সে ছেলের হাতে তুলে দিতাম।
কথার সাথে যতবারই দেখা করেছি, ওর জন্য বকুল ফুলের মালা, সাথে একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে যেতাম।এবারও কোন ব্যতয় ঘটল না?চোখের পানি মুছে কষ্টকে চাঁপা দিয়ে নিউমার্কেট মোড় থেকে বকুল ফুল আর একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে গেলাম। মনে মনে ভেবে নিলাম কথাকে বকুল ফুল আর গোলাপ গুচ্ছ দিয়ে জিজ্ঞেস করব কেন করলো এমন আমার সাথে! সবকিছু শেষ করে দিয়ে আসবো।
রাস্তায় জ্যামে লেট হয়ে যায়। কথাদের বাসায় পৌঁছাতে সন্ধ্যা লেগে যায়!
বাড়িতে কেউ নেই।
তাই সোজা উপরে চলে গেলাম।
কথা যে ঘরে থাকে সেই ঘরের দরজার কাছে গেতেই আমার হাতের ফুলগুলো সব পড়ে গেল। শরীরটা অবশ হয়ে যাচ্ছে
আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিনা।
এটা কী আমার সে কথা যে আমাকে পাওয়ার জন্য কাঁদতো।
এটা কী সে কথা যে আমার জন্য রোযা রাখতো।
আমার সাথে একদিন ফোনে কথা না হলে ব্যাকুল হয়ে যেত।এটা কি সে কথা যে আমার সাথে কথা বলার জন্য বাইরে ঘুরতে যেতো না। নাহ্ কিছু ভাবতে পারছিনা। কষ্টে বুকটা ফেঁটে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে বুকের ভিতর কেউ ছুরি চালিয়ে দিচ্ছে। কলিজা টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে,
ঘরের ভেতর থেকে আওয়াজ আসছে” বেবী অার একটু কাছে আসো না প্লিজ”। তোমাকে আজ মন ভরে আদর করবো। চিরদিন মনে থাকবে আমার কথা। (ছেলে কণ্ঠে”)
যাহ্ দুষ্ট আমার বুঝি লজ্জা করে না ?
আমার সব তো দেখে নিলে।তবে তুমি বরাবরের মতোই দুষ্ট! যাহ্ বলে বুঝানে যাবেনা! (কথা)
“তোমার সৌন্দয্যে আমি যে পাগল”ফিস ফিস আওয়াজ আসছে রুম থেকে। আমার আর বুঝতে বাকি রইলো না ভেতরে কি হচ্ছে। মনে হচ্ছে ছুরি দিয়ে কেউ কলিজাটা ক্ষত বিক্ষত করে ফেলছে। মানুষ এতটা নিজ কেমনে হতে পারে। মন চাচ্ছে দরজাটা ভেঙে ফেলি লাথি মেরে। কিন্তু পারলাম না, আমার দৃষ্টির অগোচরে যেসব করে আনন্দ পাচ্ছে। তাতে আমার ব্যাঘাত ঘটনার প্রয়োজন নেই।সুখে থাকুক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া মানুষ গুলো! শার্টের হাতা দিয়ে চোখের পানি মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলাম কথাদের বাসা থেকে।
রাতে আর কিছু খায়নি।কথার প্রতারণা গুলি বিষের ছুরির মতো আঘাত করছে হৃদয়ে। হঠাৎ ফোনটা বাজতেছে,চেয়েই দেখি কথা। কয়েকবার রিং হওয়ার পর ফোনটা বন্ধ করে রেখে দেয়।মা এসে রাতের খাবার জন্য ডেকে দেয়।
রাতে খাবার সময় মা-বাবাকে বলল, কথাকে আমাদের বাড়ি তুলে আনতে। কথার পড়াশুনা শেষ। আমাদের বিয়ে হয়েছে প্রায় ৬ মাস আগে। বিয়ের পরই কথা, মেসে চলে যায়। মেডিকেলে পড়ে তাই ওর সাথে ফুলশর্য্যাটাও হয়নি। কথ আশায় ছিলাম রাএিটার জন্য কিন্তু এখন ঘৃণা হচ্ছে নষ্টা মেয়ের প্রতি। মা-বাবাকেই কথার কার্যকলাপ কিছু বলতে পারছিনা। মা -বাবা সিদ্ধান্ত নিলো সামনে শুক্রবারে কথাকে তুলে নিয়ে আসবে। আমি কিছু বললাম না হালকা খেয়ে চলে আসলাম।
পরের দিন ঘুম থেকে উঠতেই দেখি কথা কিচেনে মায়ের সাথে রান্না করছে। ছলনাময়ীটাকে দেখে শরীরটা রাগে জ্বলছে।দেখতে মন চাচ্ছে না নষ্ট মেয়েটাকে।
রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। হঠাৎ কারো স্পর্শে, ফিরে তাকাতেই দেখি কথা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে, কিছুই জানেনা। নিজের দেহটাকে অন্যজনকে দিয়ে আমার কাছে আসছে, ভালবাসা দেখাতে।
” আমার জানপাখি রাগ করেছে আমার উপর? কাল বাসায় গিয়ে ফুল দরজার সামনে ফেলে রেখেছো। আমাকে বলবে না তুমি আসতেছো।একটা বার ডাকও দাওনিস তুমি যখন বাসায় গিয়েছিলে তখন আমি ঘুমিয়েছিলাম।এই জন্যই আমার জানপাখি ফোন ধরা লাগে না। কাছে আসো আদর করি ( কথা)
কথার গুছানো মিথ্যা কথা শুনে মনে হচ্ছে ঠাস ঠাস করে চড় বসিয়ে দেয়।না পারলাম না কোথায় যেন আকঁটে গেলাম!
” কি হলো কথা বলছো না কেন? সামনে শুক্রবারে মা-বাবা আমাকে বউ করে একেবারে নিয়ে আসবে সেদিন রাতে গোমরা মুখোটাকে আদর করবো। এখন যায়!
কথাগুলো বলে কথা চলে গেল। নিজের উপর অনেক রাগ হচ্ছে না পারছি কিছু বলতে না পারছি কিছু সইতে!
দেখতে দেখতে আজ আমার বাসর রাত। কথা বউ সেজে বসে আছে। কতরাত স্বপ্ন দেখেছি এই রাতটি নিয়ে কিন্তু আজ সব স্বপ্ন মরীচীকা। স্বপ্নগুলো রং হারিয়েছে। বাহিরের বেলকুণিতে দাঁড়িয়ে মেঘের আড়ালে ঢেকে যাওয়া চাঁদটাকে দেখছি। আমার জীবনের মতো চাঁদটার মেঘের আড়ারে পড়ে গেছে। হঠাৎ কাঁধের উপর কারো হাতের ছোঁয়া পেলাম। চেয়েই দেখি বাবা।
” রাজ, মেয়েটা বাসর ঘরে একা, রাত দুইটা বাজে এখানে দাঁড়িয়ে না থেকে ঘরে যা বাবা”।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি, রাত আড়াইটা ছুই ছুই! ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও বাসর ঘরে গেলাম। রুমটা কি সুন্দর করে সাজানো। তবে রুমটাকে কিসের যেন অভাব মনে হচ্ছে তা হলো ভালবাসার। যাকে সবটা দিয়ে ভালবাসতাম সেই প্রতারণা করেছে। মনে মনে স্হির করে নিলাম ফ্লরে কাটিয়ে দিবো এই ভেবে, বিছানায় গিয়ে অনেকটা অবাক হলাম! কথা সেন্সলেন্স হয়ে পড়ে আছে।মা-বাবাকে ডাকদিলাম।
মা-বাবা সবাই মিলে কথাকে হসপিটালে নিয়ে গেলাম। ডাক্তার যাহ্ বললো তা শুনার মুটেই প্রস্তুত ছিলাম নাহ্!
আপনারা মিষ্টি খাওয়ান, মিঃ রাজ আপনার বউ মা হতে চলেছে”।
ডাক্তারের কথা শুনে, থমকে গেলাম। নাহ্ এ হতে পারে না। পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে। কথার সাথে আমার কখনো শারীরীক সম্পর্ক হয়নি! বুঝতে বাকি রইল না কথার গর্ভের সন্তান টা…

পরবর্তী পর্বের জন্য আপেক্ষা করুন!

Tagged : / /

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *