দৃষ্টির অগোচরে পর্ব – ০৩ (শেষ) || জিসান আহম্মেদ রাজ

Person
Jisan Ahmed Raj

এদিকে কথা রুমে ঢুকেই শুনে ফেলল” আরে আমার দুষ্ট জামাই আমি দেখছি বিষয়টা”সাথীর কথাটা শুনে কথা চোখ মুছতে মুছতে বের হয়ে গেল। আমি আর কিছু বললাম না, কারণ নষ্ট মেয়েদের কাছে এসব ব্যাপার না! তবে একটা জিনিস বুঝতেছি, কথার সাথে শারীরীক সম্পর্ক করেনি। তাহলে রির্পোটে কেন দেখাচ্ছে শারীরীক সম্পর্ক হয়েছে কথার সাথে আমার। নাহ্ কিছু ভাবতে পারছিনা।
এদিকে কথা ভাবছে,রাজ আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করল! আমাকে জানালে কি হতো?কথার নাম্বারে একটা ম্যাসেজ আসলো” প্লিজ ম্যাসেন্জারে গিয়ে দেখেন, আপনার স্বামী কতটা মহান”! কথা তাড়াহুড়া করে, ম্যাসেন্জারে ঢুকতেই অবাক হয়ে গেল” রাজ কে সে অনেক ভালো ভাবত, সেই রাজই কিনা, ডাক্তার মেয়েটার সাথে অশ্লীল কাজ করছে! কথার নিজের অজান্তেই বুক ফেঁটে কান্না আসছে! কথা হঠাৎ দেখলো ” যা দেখার মোটেই প্রস্তুত ছিল না” ডাক্তর সাথীকে রাজ কুলে করে নিয়ে বেডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বাহির থেকে কাচের জানালা ভেদ করে সব দেখা যাচ্ছে। কথার পৃথিবীটা উলট পালট হয়ে যাচ্ছে। সে ভাবছে আমি তো রাজকে নিজের থেকে বেশি ভালবাসতাম। আমি জানি না কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছি। মহান আল্লাহ্ তায়ালা জানে! কথার ভিডিওটার কথা এবয় সাথীকে কুলে করে বেডের দিকে নিয়ে যাওয়ার দেখে বুঝতে বাকি রইলো না রাজের মনের ঘরে অন্যজনের বসবাস।
কথা চোখ দুটি মুছে চলে গেল বাসায় সে আর হসপিটালে থাকতে পারবে না। যাকে দেবতার আসনে বসিয়েছিল সে এমন করল! আমার ভালবাসার এ মূল্য দিলো রাজ! আমি তো কোন অন্যায় করিনি।বাসায় এসে না খেয়ে শুয়ে পড়ে।
এদিকে রাতে বাসায় এসে বুঝতে পারি যে কথার কিছু একটা হয়েছে! তবে একটা বিষয় আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো, আমি কথার সাথে কোন শারীরীক রিলেশন করিনি,তাহলে কেমনে ডি.এন. টেস্টে ম্যাচ করলো। বুঝতেছি কিছু। সাথীকে দিয়ে এক রির্পোট তিনবার করিয়েছি। এদিকে পাশে তাকাতেই দেখি, কথা ওপাশ ফিরে ঘুমিয়ে গেছে।চোখ দুটি ফুলে রয়েছে। মোবাইলটা পাশে, পড়ে আছে। মোবাইলটা নিয়ে কথার ফেসবুক আইডিতে ঢুকার জন্য পাস দিলাম”রাজকথা!লগইন হয়ে গেল।একটু অবাক হলাম,কারণ কথায় বলেছিল”রাজকথা” নামটা তাঁর হৃদয়ে সারাজীবন থাকবে। আইডিতে ঢুকে তেমন কিছু পেলাম নাহ্! তবে ইনবক্স চেক করতে গিয়ে চমকে গেলাম নাহ্ এ হতে পারে না! আমি সাথীর সাথে এসব। নাহ্ কিছু ভাবতে পারছিনা। বুঝতে বাকি রইল না আমার সাথে কেউ গেম খেলছে! সেদিন যদি কথার রুমে ঢুকতাম আসল কার্লপিট টাকে খুজে পেতাম।
ফোনটা কথার পাশে রেখে ঘুমিয়ে গেলাম! মাঝরাতে কারো কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙ্গল। পাশের রুম থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে।
বিছানায় পাশে তাকাতেই দেখি কথা নেই! আমি ঘুম ঘুম চোখে পাশে রুমে গিয়ে দাঁড়াতেই চমকে গেলাম।কথা নামায পড়ে মোনাজাতে কাঁদছে,।মোনাজাতে যা বললে তা শুনার মুটেই প্রস্তুত ছিলাম নাহ্! কথা মোনাজাতে বসে বলছে, – হে পরওয়ারদেগার রাহমানীর রাহিম। আমি গোনাহ্গার তোমার দরবারে দুটি হাত তুলে ধরেছি এই মাঝরাতে। সারা দুনিয়ার মানুষ যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন তোমার দরবারে তোমার অভাগী পাপী বান্দীটি দুটি হাত তুলে ধরেছে! জানিনা কি এমন অপরাধ করেছি যার জন্য আজ আমি অন্তঃসত্ত্বা! হে আল্লাহ্ তুমি তো জানো,আমার স্বামী রাজ ব্যতীত কোন ছেলে আমাকে স্পর্শ করেনি তাহলে কেমনে আমি মা হচ্ছি।তুমি না সতী নারীর মর্যাদা রক্ষা করো! তাহলে কেন আজ আমি সবার কাছে নষ্টা।আমার স্বামীর কাছে নষ্টা? আমি তো রাজকে পাওয়ার জন্য কত রোযা রেখেছি,দিনের পর দিন কেঁদেছি। মাঝরাতে উঠে কান্না করেছি রাজের বুকে মাথা রেখে শান্তিতে ঘুমাবো বলে তোমার দরবারে! তবে কেন হলো আমার জীবনটা ছন্ন ছাড়া।আজ মা-বাবার কাছে নষ্টা সমাজের কাছে বেশ্যা হয়ে গেলাম।আমার স্বামী যাকে হৃদয়ের পবিএ স্থানে জায়গা দিয়েছিলাম সে, অন্য মেয়ের বুকে। আল্লাহ্ আমি পারছিনা, আমার স্বামীর অবহেলা সইতে। আল্লাহ্ শেষ নিঃশ্বাস টা যেন স্বামীর বুকে ফেলতে পারি। আমাকে আমার স্বামীর থেকে আলাদা করো না। এসব বলে কাঁদতে লাগল।
আমি আর ওসব শুনতে পারছি না।কথার প্রতিটি কথা হৃদয়ে আঘাত হানছে। মনে মনে ভাবছি কেউ মোনাজাতে মিথ্যা বলবে না তো কখনো! তাহলে কি আমি ভুল শুনেছিলাম সেদিন কথাদের বাড়িতে? নাহ্ আমি সেদিন স্পর্ষ্ট কথার মুখে এবং অন্য একটি ছেলের মুখে কথাকে নিয়ে বাজে কথা বলতে। আমি কিছু ভাবতে পারছি না।
পরেরদিন ফ্রেশ হয়ে কথাকে কিছু না বলে অফিস চলে যায়।
এদিকে কথা বাসায় বসে আছে,হঠাৎ একটা হকার কথার হাতে একটা খাম ধরিয়ে দিয়ে গেল। খামের ভেতর কিছু অশ্লীল ছবি যা রাজ আর সাথীর।ছবি গুলো দেখে কথার বুক ফেঁটে কান্না আসছে। কথা কাউকে কিছু না বলে, রাজের অফিসে যায়। অফিসে গিয়ে রাজের কথা জিজ্ঞেস করতেই পিয়ন বলে ” ম্যাডাম স্যার তো তাঁর ডাক্তার বান্ধবীকে নিয়ে ঘুরতে গেল। স্বামী স্ত্রীর মতো চলাফেরা করে আপনি আপনার স্বামীকে দেখে রাখবেন”! প্রিয়নের কথা শুনে কথার বুঝতে বাকি রইল না রাজ তাকে করুণা করে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলো, রাজকে ডির্ভোস দিবে। রাজ হয়তো তাকে করুণা করে বাড়িতে জায়গা দিয়েছে। তাঁর জন্য রাজ তার ভালবাসা সাথীকে বাবা-মায়ের সামনে নিয়ে আসতে পারছে না! তাই ডির্ভোস পেপার সাইন করে একটা চিরকুট লিখে বাসায় রেখে কথা বাবার বাড়িতে চলে যায়।
এদিকে আমি, রাত নয়টার এসে কথাকে কোথাও দেখতে না পেয়ে রিত্তকে ডাক দিলে, রিত্ত বরে বাড়ি তো বাসায় চলে গেছে তাদের।
আমি কাপড় চেন্জ করে, টেবিলের দিকে একটা চিরকুট। চিরকুট টা পড়ে বুঝতে বাকি রইল না কথা আমাকে ভুল বুঝেছে। আর পিক গুলো বিছানার নিচে দেখি, অনেকটা অবাক হলাম।ডির্ভোস পেপারটা, না সাইন করে আলমারিতে রেখে দিলাম। পরেরদিন অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পর গাড়ি একসিডেন্ট করে।
আমার জ্ঞান ফেরার পর আমি কথা বলতে পারিনা। ডাক্তার মা-বাবাকে বলল আমি সম্পূর্ণ প্যারালাইস্ট হয়ে গেছি।আমি কোন কথা বলতে পারবো না । শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছাড়া কোন উপায় নেই!
এদিকে বাসায় হুইল চেয়ারে বসিয়ে রাখে নড়তে পারিনা। খুব ইচ্ছে করে কথার চাঁদমুখটা দেখতে। শুনেছি কথা নাকি ঢাকার বাহিরে! প্রতিটা মুহূর্ত মনে হচ্ছে মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছি। অনেক বন্ধু-বান্ধব দেখতে এসেছিল। অনেকেই জড়িয়ে ধরে কেঁদে দিয়েছে। তাদেরকে জড়িয়ে ধরে স্বান্ত্বনা টুকুও দিতে পারিনি!
সপ্তাহ খানেক পর কথা ঢাকা থেকে শেরপুর ফিরে শুনে যে আমার এ অবস্থা। কথা আঙ্কেল-আন্টিকে বলে যে কেন তাঁকে খবর দেয়নি। আঙ্কেল আন্টি কথাকে বলে মারে কি বললো রাজ তোর সাথে যা করেছে। তুই কী এমনি ডির্ভোস নিয়েছিস। ডাক্তার মেয়েটার সাথে রিজের অবৈধ সম্পর্ক সবাই জানে। আর এটা রাজের পাপের ফল। তোকেও তো রাজ বিয়ে না করার হুমকি দিয়ে ভোগ করেছে। যির জন্য সবাই আমাকে কতো বাজে কথা বলেছে।
বাবা চুপ করবে। রাজ আমার স্বামী! আমি ডির্ভোস দিলেও সে আমাকে দেয়নি।দিলে আদালতের নির্দেশ পেতাম।স্বামী যতই খারাপ থাকুক, তাঁর বিপদে যে স্ত্রীর যেতেই হবে। এই বলে বাসায় এসে দেখে যে- আমি হুইল চেয়ারে বসে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছি! চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
কথা অনেক ক্ষণ কান্নাকাটি করে চলে গেল! কয়েকদিন পর তোবা আসল একটি ফুলের তোড়া নিয়ে।তোবা আমার ভার্সিটি ফ্রেন্ড। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফট্রোগাফি নিয়ে পড়েছে। আমার অনেক ভালো ফ্রেন্ড ছিল।যদিও একটা সমস্যার জন্য ছয়মাস একজন আরেকজনের ছাঁয়াটাও মাড়াইনি। পরে একদিন তোবা এসে সরি বলে সব ঠিক করে নেয়।তোবার দেয়া ফুলের তোড়ার সাথে একটা বিয়ের কার্ড।কার্ডটাতে দেখা যাচ্ছে কথার সাথে একটা ছেলে। বুঝতে বাকি রইল নাহ্ কথার বিয়ের কার্ড এটা।
কি মিঃরাজ অবাক হলেন? আপনার স্ত্রী অন্যের বউ হতে যাচ্ছে। কলিজা ফেঁটে যাচ্ছে তাই তো। আমারো ফেঁটে যাচ্ছিল যেদিন আপনার আর কথার বিয়ে হয়। আমি সহ্য করতে পারতাম না আপনার সাথে কাউকে।ভার্সিটিত
ে এতোটাই পাগল ছিলাম আপনার জন্য আপনার ছবি দিয়ে আমার রুমের প্রতিটা কোণা ভরে ফেলছিলাম তখন। ভালবাসতাম আপনাকে, সেটা জানতেন। তারপরও ইগনোর করতেন। যেদিন সবার সামনে আপনাকে জড়ায় দিয়ে ভার্সিটিতে আপনি আমাকে থাপ্পর দিয়ে বলেছিলেন” আমি কথাকে ভালবাসি, আল্লাহ্ ছাড়া কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না” সেদিন আপনার কথাটা চ্যালেন্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। আমি সাথীর কাছে শুনেছি আপনি কয়েকদিনের মেহমান এই পৃথিবীর। তাই সত্য কিছু কথা বলে যায়! আপনার স্ত্রী কথা ফুলের মতো পবিএ, তাঁর গর্ভে আপনারই সন্তান, তবে সে সন্তানকে এভারর্শন করাবে কাল তার পর বিয়ে রাফির সাথে আপনার স্ত্রী কথার ওহ্ না আপনার ভালবাসার মানুষ ও তো কথা। জানেন রাফি অনেক ভাগ্যবান ছোটবেলা থেকে নাকি কথাকে ভালবাসতো, তাই এতো কিছুর পরও কথাকে বিয়ে করছে। হ্যাঁ এখন কথা হলো শারীরীক সম্পর্ক ছাড়া কেমনে বাবা হচ্ছো আর তোমার প্রিয়তমা কেমনে তোমার সন্তানের বাবা? তাহলে শুনো- তোমার মনে আছে? গত মাসের একুশ তারিখ আমার বার্থডে ছিল। সেদিন তুমি আর কথা ছিলো আমার একমাএ গেষ্ট। আপন বলতে সেদিন তোমরা দুজনই ছিলে। রাতে তোমাদের শরবতের গ্লাসে একটা ড্রাগস মিশিয়ে দেয় যা খাওয়ার পরের পাঁচঘন্টার স্মৃতি তোমাদের ব্রেন থেকে মুছে দেয়। সেই ড্রাগস খাওয়ার পর তোমাদের দুজনকে,সেক্সের পিল খাইয়ে দেয় কৌশলে আর তোমরা দুজন সেদিন নিজেদের অজান্তে নোংরা খেলায় মেতে উঠো। আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল, তবুও যে আমাকে এই খেলাটা খেলতেই হলো! তারপর পরেরদিন তোমরা দুজন দুজনের বাড়িতে চলে যাও। আর বুঝতে পারোনা রাতে তোমাদের মাঝে কি হয়েছে।
হা,হা হা, এখন ভাবছো যে সেদিন কথাদের বাড়িতে ফুল নিয়ে দরজার সামনে যেতেই রুম থেকে কথার আর অন্য ছেলের বাজে কাজ করার কথা শুনেছে? হ্যাঁ তুমি ঠিক শুনেছিলে, তবে কন্ঠটা আমার ছিলো, ডাবিং করা! তুমি তো জানো আমি ফট্রোগাফার নয় শুধু ইডিটিং এ বাংলাদেশের টপ টেনে রয়েছি। তুমি যখন কথাদের বাড়িতে যাও তার আগে আমি কথাদের বাড়িতে যায় আন্টির কাছে সুনে যে তারা বাহিরে যাচ্ছে এবং তোমাকে আসতে বলছে।আমু সুযোগ টাকে কাজে লাগায়। তুমি আসার আগেই কথার কাছে পোঁছে যায়। কথা আমার আর ওর জন্য চা নিয়ে আসলে কৌশলে চা তে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে দেয়। সময়মতো কথা ঘুমিয়ে গেলে।আমি অপেক্ষা করি তোমার আসার তুমি যখন দরজার কাছে তখন ট্যাপ রেকর্ডার টা অন করি, আর তুমি ভুল বুঝো। আর তোমাকে দেওয়া ভিডিও কথাকে দেওয়া তোমার ভিডিও এবং ফটো সব ইডিট করা। খুব কষ্ট হচ্ছে জানো, সব কিছু আমার প্ল্যানে হলেও, আল্লাহ্ তোমার দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিল। বেঁচে থাকলে তিলে তিলে তোমাকে মারতাম কিন্তু আফসোস বেশিদিন বাঁচবে না। আর তোমার সন্তানকে কাল এবার্রশন করাবে।পরশু তোমমার প্রিয়তমা কথার বিয়ে। আর হ্যাঁ আমাকে একটা থাপ্পর দেওয়ার প্রতিশোধ এটা। তোমাকে এতটা ভালবাসার পরও আমাকে ইগনোর করার শাস্তি এটা! ভালো থেকে তোমার জীবন সুখের হোক ফুলের শুভেচ্ছা রইল। কাল ইউএস চলে যাচ্ছি। প্রতিশোধ নেওয়া শেষ আমার।
কথাগুলো, বলে তোবা রুম থেকে যখনি বের হততে যাবে। তখনি অবাক হলো দরজার সামনে রাফি, কথা, রিত্ত সবাই দাঁড়িয়ে আছে।কি মিস তোবা অবাক হলেন! সবাই আমার মুখে এমন কথা শুনে অবাক হয়ে গেল। সবাই জানে আমি কোনদিন কথা বলতে পারবো না!
” তোবা বলতে লাগল” তো তো তুমি কীভাবে কথা বলতে পারো? তুমি না অসুস্হ!”
তোবার কথা শুনে হা হা করে হাসতে হাসতে বলতে লাগলাম! আমি দুূঘটনায় আহত হয়নি সব একটা গেম! তুমি যেমন দৃষ্টির অগোচরে এসব করেছো তেমনি আমিও সবার অগোচরে গেমটা খেললাম।আমি জানতাম সব কিছুর পিছনে তুমি ছিলে, তাই সাথীকে বলে আর সাথীর বয়ফ্রেন্ড রাফিকে বলে এসব করি! সাথী আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। আর আমি এটাও জানি, কথা ফুলের মতো পবিএ।নামাযের মুনাজাতেই তার প্রমাণ পেয়েছি। শুনেন মিস তোবা পৃথিবীতে কোন কিছুই “দৃষ্টির অগোচরে থাকে না ” সত্যের জয় একদিন না একদিন না একদিন হবেই!
সমাপ্ত
লেখকের কথা : অনেকেই বলেছেন গল্পটা পরকীয়া নিয়ে তাঁদের বলতে চাই”গল্পের লাস্ট পার্ট না পড়ে পরকীয়া পরকীয়া বলে লাফাবেন না। আমি জানি কাছের মানুষটি যদি পরকীয়ার মতো জঘন্য কাজ করে তাহলে আমরা কতটা কষ্ট পায়। আর গল্পে চরিএগুলো বাস্তবে দাগ কেটে যায়। তাই গল্পে বিন্দুমাএ পরকীয়ার কোন লেশ রাখিনি! যা হয়েছে সম্পূর্ণটাই একটা গেম! যে গেমে কথা সম্পূর্ণ নিঃশ্বাপ সাথে সাথীও!

Tagged : / /

ধৈর্যের ফল || জিসান আহম্মেদ রাজ

Person
Jisan Ahmed Raj (রাইসার আব্বু)

আমার নাম কারিমা জাহান (কথা)।আজ আমার বাসর রাত। প্রতিটা নারীর জীবনে এ রাতটি অত্যন্ত মূল্যবান কিন্তু রাত প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফজরের আযান দিবে এমন সময় রাজ ( আমার স্বামী) রুমে আসলো। বাসর রাতে স্বামীর শার্টে দেখি লিপস্টিক এর দাগ। আমি দেরী না করে আমার স্বামীর পায়ে সালাম করতে গেলেই তিনি কষে একটা থাপ্পর দিলেন।থাপ্পর খেয়ে বললাম” আপনার হাতে ব্যাথা পাননি তো?”
“হ্যাঁ লেগেছে অন্তরে, তোর মত ক্ষ্যাত, আনস্মার্ট একটা কুরআনের হাফেযা কে আজ বিয়ে করার জন্য আমাদের চার বছরের সম্পর্ক নষ্ট হলো। সেই জন্যই আজ সারারাত মায়ার সাথে কাটিয়ে আসলাম”
বাসর রাতে স্বামীর মুখে অন্য নারীর কথা শুনে নিজের অজান্তেই চোখে হাজারো অশ্রুকণা ভীড় করতে লাগল । ঠোঁট কেঁটে রক্ত বের হচ্ছে, কারণটা হচ্ছে থাপ্পর টা গালে লেগেছে।।কি বলব বুঝতে পারছিনা তবুও বললাম” আপনি জানেন না বিয়ের আগে ইসলাম প্রেম -ভালবাসা নিষিদ্ধ করেছে?”

তোকে জ্ঞান দিতে হবে না। শোন আমি ঘুমাবো” এই কথা বলে পায়ে জুতা নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।মুখ থেকে মদের গন্ধ আসছে। আমার স্বামী শুয়ে পড়লে,পা থেকে জুতা জোড়া খুলে ফেলে একটা চাদর জড়িয়ে দিলাম।
স্বামীর পায়ের কাছে বসে আছি, তখনি কানে ফজরের আযান দিলো। আযান শুনে নামায পড়ে। সকালে গোসল করে নাস্তা বানাতে চলে গেলাম।
“কথা মা,রাজ কাল কখন বাসায় ফিরেছিল?কাল রাতে তার নাকী, বন্ধু দুর্ঘটনা করেছিল তাই চলে গেয়েছিল”
শ্বশুর এর কথা শুনে মাথা নাড়িয়ে বললাম”বাবা আসতে একটু লেট হয়েছিল তাতে কোন ব্যাপার নাহ্”
আচ্ছা মা! আমার ছেলেটাকে মানুষের মত মানুষ করবে, জানি ছেলেটা একটু খারাপ। কথাটা বলে শ্বশুর আব্বা চলে গেলেন।
এদিকে চার দিন পর মাতাল অবস্হায়, রাজ আর আমার প্রথম সহবাস হয়। রাজ যা করেছে সব নেশাগ্রস্হ অবস্হায় করেছে আমার সাথে। আমি বাঁধা দিতে চেয়েও পারিনি।
প্রতিদিন অত্যাচার সহ্য করেও আল্লাহকে ভুলিনি। প্রতিদিন নামায পড়ে কুরআন তেলাওয়াত করে ঘুমাতে। কারণ আমার বুকে যে পবিএ কুরআনের এিশ পারা আগলে রেখেছি!
হঠাৎ একদিন এক রোড একসিডেন্ট এ আমার শ্বশুর শাশুড়ি মারা যায়! আপন বলতে আর কেউ রইল না। এদিকে রাজের বাবা-মা মারা যাওয়াতে রাজ এখন আরো বেশি খারাপ হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিন নেশা করে বাসায় আসে।
মায়া নামে মেয়েটা প্রায়ই বাসায় আসে। মাঝে মাঝে কুরআনের হাফেযা বলে মজা করে। মেয়েটা সবসময় মর্ডাণ ড্রেস পড়ে আমার স্বামীকে আকৃষ্ট করেছে।
এভাবে কিছুদিন যেতেই আমার মনে হল আমি গর্ভবতী। বমি আসে ঠিকমত খেতে পারি না। রাজকে না বলে রাজের শার্টের পকেট থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে দুপুরে একটা মহিলা ডাক্তার কে দেখালাম। ডাক্তার বলল আমি মা হতে চলেছি।ডাক্তারের কথা শুনে খুশিতে চোখ দিয়ে পানি এসে গেল। ভাবলাম রাজকে গিয়ে বলব তুমি বাবা হতে চলেছ।তারপর আর হয়তো আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না!
বাসায় এসে দেখি রুমের দরজা বন্ধ। ঘরের ভেতরে মায়া আর আমার স্বামী নোংরামী করছে। এ অবস্হা দেখে কলিজা ফেঁটে যাচ্ছে। মনে মনে ভাবছি আমার সন্তান যদি বড় হয়ে শুনে তাঁর বাবা একজন চরিএহীন। নাহ্ কিছু ভাবতে পারছিনা।
কিছুক্ষণ পর আমার স্বামী আর তার প্রেমিকা বের হয়ে আসলো। মায়া কিছু না বলে চলে গেল।
আমি অসহায় এর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আমার স্বামীর দিকে।
রাজ কিছু না বলেই একটা থাপ্পর বসিয়ে দিল।আর বলতে লাগল” আমার পকেট থেকে টাকা কেন নিয়েছিস, টাকা কী তোর বাবায় কামায় করে? ওহ! তোর তো বাবা-মা কেউ নেই এতিমখানা থেকে বাবা কুরআনের হাফেযা ছিলি বলে তুলে নিয়ে আসছে। আর আমার কপালে গছিয়ে দিয়েছে। তোর হাতে ওইটা কিসের ফাইল? “
আমি কিছুনা বলে, রির্পোট টা উনার হাতে দিলাম।
রির্পোট তা দেখে বলতে লাগল” এ সন্তান আমার নাহ্! এ সন্তানকে নষ্ট করে ফেলবি। এই নে ১০০০ টাকা।”
আমার কাছে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে জঘণ্য কথাটি শুনলাম আজ।কোন বাবা কী নিজের সন্তানকে অস্বীকার করতে পারে? নাহ! কিছু ভাবতে পারছি না টাকাটা নিয়ে রুমে চলে আসলাম।
রুমে এসে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম দু’রাকাত নামায পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলতে লাগলাম হে আল্লাহ্ আমার স্বামীকে হেদায়াত দান কর। আমাকে কষ্ট সহ্য করবার মত ধৈর্য্য দান কর।
আজকে রাতে দেখলাম আমার স্বামীর মায়া মেয়েটাকে নিয়ে আসছে। আমাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলল। চোখের পানি মুছে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম। জানি এখন তারা অশ্লীল কর্ম করবে। তাদের না করার ক্ষমতা নাই। তবে যা করতে পারি তা হলো আল্লাহর কাছে আমার স্বামীর হেদায়েত কামনা করতে।
এদিকে তাঁরা রুমে ওইসব করছে। আমি পাশের রুমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে কাঁদছি। আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে, আল্লাহ্ আমার ডাক একদিন না একদিন ঠিকই শুনবে। যখনি বেশি কষ্ট হয় তখনি, পবিএ কুরআনের সেই আয়াতটি মনে পড়ে যায়ঃ
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺳْﺘَﻌِﻴﻨُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﺼَّﺒْﺮِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳﻦَ
হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।( সূরা বাকারা,আয়াত নং ১৫৩)
নামায শেষ করে দরজার কাছে আসতেই যা শুনলাম তাতে করে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। মায়া মেয়েটা বলতেছে” রাজ কথাকে মেরে আমাদের দুজনের মাঝে কাঁচের দেয়ালটা ভেঙে ফেলতে হবে। তোমাকে আগেই বলেছিলাম যে, আগেই আমাদের পথের কাঁটাটাকে সরিয়ে ফেলতে। কিন্তু তুমি দেরী করাতে এখন আরেকটা আপদ বাঁধিয়ে ফেলেছে।”
“সুইট হার্ট আগামী সাতদিনের মাঝে, আমাদের পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলব। সামনের শুক্রবারে অফিস বন্ধের রাতে হাফেযা নাকী? রাবিশটাকে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাইয়ে দিয়ে সুসাইড বলে চালিয়ে দিব”। দরজার বাহির থেকে নিজের স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে নিজের শরীরটা হিম হয়ে যাচ্ছে।মনে মনে ভাবছি কোথায় যাবো? আল্লাহর এত বড় দুনিয়াই আমার যাওয়ার যে কোন জায়গা নেই।
এদিকে দু’দিন কেটে গেল। এখন প্রায় রাতই রাজ বাসার বাহিরে থাকে। খুব চিন্তা হয়, রাজ হয়তো জানে না তাকে আড়ালে খাবার দিয়ে আড়াল থেকে দেখি সে খেয়েছে কি না। তার খাওয়া হইলে তারপর নিজে খায়। কয়দিন ধরে খুব কষ্ট হচ্ছে।রাজ বাসায় যখন না থাকে তার শার্টগুলো গায়ে দিয়ে তার শরীরের গন্ধ নেয়। অনুভব করি তাকে।
এদিকে রাজ সব প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে, খুন করার জন্য। আজ রাতে খুন করবে কথাকে। দোকান থেকে ঘুমের ট্যাবলেট কিনে নেওয়ার সময় দেখে, কয়েকটা ছেলে কী যেন দেখছে মনযোগ দিয়ে। একটা ছেলে রাজকে দেখিয়ে বলল, ” ওই যে ছেলেটা ওইটাও মেয়েটার বয়ফেন্ড ছিল” রাজ তাদের কথা কিছু বুঝতে পারল না।
হঠাৎ এক বন্ধু ফোন দিয়ে রাজকে ফেসবুকে যেতে বলল। রাজ বন্ধুর কথায় ফেসবুকে গিয়ে দেখে, তাঁর বন্ধু ম্যাসেন্জারে একটা ভিডিও পাঠিয়েছে। ভিডিওটা দেখে রাজের পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে।” ভিডিওতে রাজের প্রেমিকা মায়া তাঁর বন্ধু রাফির সাথে অবৈধ কাজ করছে। রাজের বিশ্বাসের দেয়ালটা ভাঙা কাঁচের মতো টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।রাজ কিছু না ভাবতে পেয়ে মায়ার বাসায় চলে যায়।
বাসায় গিয়ে দেখে, মায়া অন্য একটা ছেলের সাথে আপত্তিকর অবস্হায়। রাজ সহ্য করতে না পেয়ে, মায়ার গালে ঠাস ঠাস করে থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বলতে লাগল” কী অপরাধ করেছিলাম আমি? আমার সাথে মিথ্যে প্রেমের খেলা করলি?
“হা,হা তোর সাথে প্রেম ছিল না ওইটা। আমি তো ভালবাসি রাফি। তোর কী আছে রাফির সবকিছু আছে। চলো বাবু এসব ফকিরের বাচ্চার কথা শুনে টাইম নষ্ট হচ্ছে।” কথাটা বলে মায়া রাফিকে নিয়ে, রুমে চলে গেল।
আজকে রাজের খুব কান্না পাচ্ছে। বারবার কথার কথা মনে পড়ছে। মেয়েটাকে অনেক অবহেলা করেছে। কিছু ভাবতে পারছে না! আজ রাজের মনে মনে স্হির করলো কথার পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে নিবে। যে পর্যন্ত কথা তাকে ক্ষমা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত পা ছাড়বে না।
এদিকে বাসায় আসতে আসতে দেখে রাত ২ টা বাজে। পাশের রুমে লাইট জ্বলছে। রাজ রুমের কাছে যেতেই যা শুনল তা শুনে সে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। কথা নামায পড়ে মোনাজাতে বলতে লাগল;
হে পরম করুণাময় আসমান ও জমিনের মালিক।ইয়া রহমান – ইয়া রাহীম, জন্মের পর মা-বাবাকে দেখিনি। মা ডাকটা কতটা মধুর তা বুঝেনি। বাবা নামক যে একটা বটবৃক্ষের ছাঁয়া থাকে,সে ছাঁয়াটা কখনো মাড়াতে পারিনি। আল্লাহ্ জন্ম নেওয়ার পরই এতিম খানায় বড় হয়েছি। যখনি সবাই মা ডাক শিখেছে, আমি তখন আলিফ তে আল্লাহ্! মিম তে হযরত মুহাম্মদ( সা.) এর নাম শিখেছি। আল্লাহ্ যেদিন ঈদের দিন দেখলাম, রাস্তায় একটা মা তাঁর সন্তানকে গালে মুখে চুমু খাচ্ছিল তখন আমি আসমানের দিকে তাকিয়ে তোমাকে বলেছিলাম” হে আল্লাহ তুমি নাকি আসমানে থাকো। তুমি নাকি সবার ডাক শুনতে পারো? আচ্ছা আল্লাহ আমি ছোট মানুষ আমার ডাক ও কী শুনতে পাও তুমি? আল্লাহ্ আমি তোমার কাছে একটা অনুরোধ করি আমি আমার মাকে একটি বার দেখতে চায়। মা বলে ডাকতে চায় দেখাবে আমাকে!! তবুও তোমার প্রতি অভিযোগ করেনি। আল্লাহ্ আমার স্বামীকে হেদায়েত দান কর।আমার স্বামীর বাড়ি ছাড়া যে আর কোন জায়গা নেই যাওয়ার। ছোটবেলা থেকেই এতিমখানায় বড় হয়েছি। তোমার কাছে প্রার্থনা আমার স্বামীকে পূণাঙ্গ মুমিন বানিয়ে দাও। হে পরম করুণাময় আমি আমার স্বামীকে নিয়ে জান্নাতে থাকতে চায় দিবে কী সে জায়গা? আল্লাহ্ এতিমের কথা শুনবে না তুমি? তোমার কাছে তো আমি কোনদিন কিছু চায়নি। আমি আজ আমার স্বামীকে চাই। আমার স্বামীকে হেদায়েত দান কর আল্লাহ।”
.রাজ কথার মুখে এমন কথা শুনে কি বলবে বুঝতে পারছেনা। যাকে সে মারার প্ল্যান করছে, সেই তাকে নিয়ে জান্নাতে নিয়ে থাকতে চায়। এত অবহেলা অত্যাচার করার পরও একটিবার অভিশাপ দেয়নি। আল্লাহ তুমি আমার চোখ খুলে দিয়েছে। রাজ মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদছে।
কথা মোনাজাত শেষ করেই পিছন দিকে তাকাতেই দেখে রাজ কাঁদছে।রাজের চোখে পানি দেখে কথার কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে। কথা রাজের কাছে গিয়ে বলল “কাদঁছেন কেন?”
কথার কন্ঠটা শুনেই রাজ কথায় পা ধরতে গেল।
কি করছেন আপনি এসব?
“কথা আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি অনেক অন্যায় করেছি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে না করলে আল্লাহ্ তায়ালাও ক্ষমা করবে না ” ( রাজ)
কথা রাজের মুখে এমন কথা শুনে বলল ” ক্ষমা চাও? “
“হুম”
তাহলে একটু বুকে জড়িয়ে নিবে আমায়?
কথার মুখে এমন কথা শুনে রাজ কথাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে। রাজের চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। কথার চোখের পানিতে রাজের বুক ভেঁজে যাচ্ছে। আজকের কান্না কোন কষ্টের কান্না নয়। আজকের কান্না যে পরম সুখের।
পাঁচ বছর পর,
রাজ আজ পূণাঙ্গ মুমিন। তার মুখে রাসূলের সুন্নাত দাঁড়ি। তাঁদের ঘর আলোকিত করে একটা বাচ্চা এসেছে নাম “তাসনিয়া কারিমা রাইসা”।মেয়েটাকে তাঁর বাবা কুরআন শিক্ষা দিচ্ছে। আজ কথার পাশাপাশি রাজও এিশ পারা কুরআনের হাফেয।
লেখকের কথা : আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই প্রতিটি মা বোনকে বলতে চায় আপনারা ধৈর্য্যহারা না হয়ে,বিশ্বাস রাখুন আল্লাহ তায়ালার প্রতি। নিশ্চয় আল্লাহ্ তায়ালা ধৈর্য্যশীলদের পাশে রয়েছেন। আমাদের সকলকে আল্লাহ্ ও রাসূলের পথে চলতে পারি যেন।

Tagged : / /