ধৈর্যের ফল || জিসান আহম্মেদ রাজ

Person
Jisan Ahmed Raj (রাইসার আব্বু)

আমার নাম কারিমা জাহান (কথা)।আজ আমার বাসর রাত। প্রতিটা নারীর জীবনে এ রাতটি অত্যন্ত মূল্যবান কিন্তু রাত প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফজরের আযান দিবে এমন সময় রাজ ( আমার স্বামী) রুমে আসলো। বাসর রাতে স্বামীর শার্টে দেখি লিপস্টিক এর দাগ। আমি দেরী না করে আমার স্বামীর পায়ে সালাম করতে গেলেই তিনি কষে একটা থাপ্পর দিলেন।থাপ্পর খেয়ে বললাম” আপনার হাতে ব্যাথা পাননি তো?”
“হ্যাঁ লেগেছে অন্তরে, তোর মত ক্ষ্যাত, আনস্মার্ট একটা কুরআনের হাফেযা কে আজ বিয়ে করার জন্য আমাদের চার বছরের সম্পর্ক নষ্ট হলো। সেই জন্যই আজ সারারাত মায়ার সাথে কাটিয়ে আসলাম”
বাসর রাতে স্বামীর মুখে অন্য নারীর কথা শুনে নিজের অজান্তেই চোখে হাজারো অশ্রুকণা ভীড় করতে লাগল । ঠোঁট কেঁটে রক্ত বের হচ্ছে, কারণটা হচ্ছে থাপ্পর টা গালে লেগেছে।।কি বলব বুঝতে পারছিনা তবুও বললাম” আপনি জানেন না বিয়ের আগে ইসলাম প্রেম -ভালবাসা নিষিদ্ধ করেছে?”

তোকে জ্ঞান দিতে হবে না। শোন আমি ঘুমাবো” এই কথা বলে পায়ে জুতা নিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।মুখ থেকে মদের গন্ধ আসছে। আমার স্বামী শুয়ে পড়লে,পা থেকে জুতা জোড়া খুলে ফেলে একটা চাদর জড়িয়ে দিলাম।
স্বামীর পায়ের কাছে বসে আছি, তখনি কানে ফজরের আযান দিলো। আযান শুনে নামায পড়ে। সকালে গোসল করে নাস্তা বানাতে চলে গেলাম।
“কথা মা,রাজ কাল কখন বাসায় ফিরেছিল?কাল রাতে তার নাকী, বন্ধু দুর্ঘটনা করেছিল তাই চলে গেয়েছিল”
শ্বশুর এর কথা শুনে মাথা নাড়িয়ে বললাম”বাবা আসতে একটু লেট হয়েছিল তাতে কোন ব্যাপার নাহ্”
আচ্ছা মা! আমার ছেলেটাকে মানুষের মত মানুষ করবে, জানি ছেলেটা একটু খারাপ। কথাটা বলে শ্বশুর আব্বা চলে গেলেন।
এদিকে চার দিন পর মাতাল অবস্হায়, রাজ আর আমার প্রথম সহবাস হয়। রাজ যা করেছে সব নেশাগ্রস্হ অবস্হায় করেছে আমার সাথে। আমি বাঁধা দিতে চেয়েও পারিনি।
প্রতিদিন অত্যাচার সহ্য করেও আল্লাহকে ভুলিনি। প্রতিদিন নামায পড়ে কুরআন তেলাওয়াত করে ঘুমাতে। কারণ আমার বুকে যে পবিএ কুরআনের এিশ পারা আগলে রেখেছি!
হঠাৎ একদিন এক রোড একসিডেন্ট এ আমার শ্বশুর শাশুড়ি মারা যায়! আপন বলতে আর কেউ রইল না। এদিকে রাজের বাবা-মা মারা যাওয়াতে রাজ এখন আরো বেশি খারাপ হয়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিন নেশা করে বাসায় আসে।
মায়া নামে মেয়েটা প্রায়ই বাসায় আসে। মাঝে মাঝে কুরআনের হাফেযা বলে মজা করে। মেয়েটা সবসময় মর্ডাণ ড্রেস পড়ে আমার স্বামীকে আকৃষ্ট করেছে।
এভাবে কিছুদিন যেতেই আমার মনে হল আমি গর্ভবতী। বমি আসে ঠিকমত খেতে পারি না। রাজকে না বলে রাজের শার্টের পকেট থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে দুপুরে একটা মহিলা ডাক্তার কে দেখালাম। ডাক্তার বলল আমি মা হতে চলেছি।ডাক্তারের কথা শুনে খুশিতে চোখ দিয়ে পানি এসে গেল। ভাবলাম রাজকে গিয়ে বলব তুমি বাবা হতে চলেছ।তারপর আর হয়তো আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করবে না!
বাসায় এসে দেখি রুমের দরজা বন্ধ। ঘরের ভেতরে মায়া আর আমার স্বামী নোংরামী করছে। এ অবস্হা দেখে কলিজা ফেঁটে যাচ্ছে। মনে মনে ভাবছি আমার সন্তান যদি বড় হয়ে শুনে তাঁর বাবা একজন চরিএহীন। নাহ্ কিছু ভাবতে পারছিনা।
কিছুক্ষণ পর আমার স্বামী আর তার প্রেমিকা বের হয়ে আসলো। মায়া কিছু না বলে চলে গেল।
আমি অসহায় এর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি আমার স্বামীর দিকে।
রাজ কিছু না বলেই একটা থাপ্পর বসিয়ে দিল।আর বলতে লাগল” আমার পকেট থেকে টাকা কেন নিয়েছিস, টাকা কী তোর বাবায় কামায় করে? ওহ! তোর তো বাবা-মা কেউ নেই এতিমখানা থেকে বাবা কুরআনের হাফেযা ছিলি বলে তুলে নিয়ে আসছে। আর আমার কপালে গছিয়ে দিয়েছে। তোর হাতে ওইটা কিসের ফাইল? “
আমি কিছুনা বলে, রির্পোট টা উনার হাতে দিলাম।
রির্পোট তা দেখে বলতে লাগল” এ সন্তান আমার নাহ্! এ সন্তানকে নষ্ট করে ফেলবি। এই নে ১০০০ টাকা।”
আমার কাছে মনে হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে জঘণ্য কথাটি শুনলাম আজ।কোন বাবা কী নিজের সন্তানকে অস্বীকার করতে পারে? নাহ! কিছু ভাবতে পারছি না টাকাটা নিয়ে রুমে চলে আসলাম।
রুমে এসে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম দু’রাকাত নামায পড়ে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলতে লাগলাম হে আল্লাহ্ আমার স্বামীকে হেদায়াত দান কর। আমাকে কষ্ট সহ্য করবার মত ধৈর্য্য দান কর।
আজকে রাতে দেখলাম আমার স্বামীর মায়া মেয়েটাকে নিয়ে আসছে। আমাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলল। চোখের পানি মুছে রুম থেকে বের হয়ে গেলাম। জানি এখন তারা অশ্লীল কর্ম করবে। তাদের না করার ক্ষমতা নাই। তবে যা করতে পারি তা হলো আল্লাহর কাছে আমার স্বামীর হেদায়েত কামনা করতে।
এদিকে তাঁরা রুমে ওইসব করছে। আমি পাশের রুমে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে কাঁদছি। আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে, আল্লাহ্ আমার ডাক একদিন না একদিন ঠিকই শুনবে। যখনি বেশি কষ্ট হয় তখনি, পবিএ কুরআনের সেই আয়াতটি মনে পড়ে যায়ঃ
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺍﺳْﺘَﻌِﻴﻨُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﺼَّﺒْﺮِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ۚ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻣَﻊَ ﺍﻟﺼَّﺎﺑِﺮِﻳﻦَ
হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।( সূরা বাকারা,আয়াত নং ১৫৩)
নামায শেষ করে দরজার কাছে আসতেই যা শুনলাম তাতে করে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছি না। মায়া মেয়েটা বলতেছে” রাজ কথাকে মেরে আমাদের দুজনের মাঝে কাঁচের দেয়ালটা ভেঙে ফেলতে হবে। তোমাকে আগেই বলেছিলাম যে, আগেই আমাদের পথের কাঁটাটাকে সরিয়ে ফেলতে। কিন্তু তুমি দেরী করাতে এখন আরেকটা আপদ বাঁধিয়ে ফেলেছে।”
“সুইট হার্ট আগামী সাতদিনের মাঝে, আমাদের পথের কাঁটা সরিয়ে ফেলব। সামনের শুক্রবারে অফিস বন্ধের রাতে হাফেযা নাকী? রাবিশটাকে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে খাইয়ে দিয়ে সুসাইড বলে চালিয়ে দিব”। দরজার বাহির থেকে নিজের স্বামীর মুখে এমন কথা শুনে নিজের শরীরটা হিম হয়ে যাচ্ছে।মনে মনে ভাবছি কোথায় যাবো? আল্লাহর এত বড় দুনিয়াই আমার যাওয়ার যে কোন জায়গা নেই।
এদিকে দু’দিন কেটে গেল। এখন প্রায় রাতই রাজ বাসার বাহিরে থাকে। খুব চিন্তা হয়, রাজ হয়তো জানে না তাকে আড়ালে খাবার দিয়ে আড়াল থেকে দেখি সে খেয়েছে কি না। তার খাওয়া হইলে তারপর নিজে খায়। কয়দিন ধরে খুব কষ্ট হচ্ছে।রাজ বাসায় যখন না থাকে তার শার্টগুলো গায়ে দিয়ে তার শরীরের গন্ধ নেয়। অনুভব করি তাকে।
এদিকে রাজ সব প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছে, খুন করার জন্য। আজ রাতে খুন করবে কথাকে। দোকান থেকে ঘুমের ট্যাবলেট কিনে নেওয়ার সময় দেখে, কয়েকটা ছেলে কী যেন দেখছে মনযোগ দিয়ে। একটা ছেলে রাজকে দেখিয়ে বলল, ” ওই যে ছেলেটা ওইটাও মেয়েটার বয়ফেন্ড ছিল” রাজ তাদের কথা কিছু বুঝতে পারল না।
হঠাৎ এক বন্ধু ফোন দিয়ে রাজকে ফেসবুকে যেতে বলল। রাজ বন্ধুর কথায় ফেসবুকে গিয়ে দেখে, তাঁর বন্ধু ম্যাসেন্জারে একটা ভিডিও পাঠিয়েছে। ভিডিওটা দেখে রাজের পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে।” ভিডিওতে রাজের প্রেমিকা মায়া তাঁর বন্ধু রাফির সাথে অবৈধ কাজ করছে। রাজের বিশ্বাসের দেয়ালটা ভাঙা কাঁচের মতো টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।রাজ কিছু না ভাবতে পেয়ে মায়ার বাসায় চলে যায়।
বাসায় গিয়ে দেখে, মায়া অন্য একটা ছেলের সাথে আপত্তিকর অবস্হায়। রাজ সহ্য করতে না পেয়ে, মায়ার গালে ঠাস ঠাস করে থাপ্পর বসিয়ে দিয়ে বলতে লাগল” কী অপরাধ করেছিলাম আমি? আমার সাথে মিথ্যে প্রেমের খেলা করলি?
“হা,হা তোর সাথে প্রেম ছিল না ওইটা। আমি তো ভালবাসি রাফি। তোর কী আছে রাফির সবকিছু আছে। চলো বাবু এসব ফকিরের বাচ্চার কথা শুনে টাইম নষ্ট হচ্ছে।” কথাটা বলে মায়া রাফিকে নিয়ে, রুমে চলে গেল।
আজকে রাজের খুব কান্না পাচ্ছে। বারবার কথার কথা মনে পড়ছে। মেয়েটাকে অনেক অবহেলা করেছে। কিছু ভাবতে পারছে না! আজ রাজের মনে মনে স্হির করলো কথার পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়ে নিবে। যে পর্যন্ত কথা তাকে ক্ষমা না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত পা ছাড়বে না।
এদিকে বাসায় আসতে আসতে দেখে রাত ২ টা বাজে। পাশের রুমে লাইট জ্বলছে। রাজ রুমের কাছে যেতেই যা শুনল তা শুনে সে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল। কথা নামায পড়ে মোনাজাতে বলতে লাগল;
হে পরম করুণাময় আসমান ও জমিনের মালিক।ইয়া রহমান – ইয়া রাহীম, জন্মের পর মা-বাবাকে দেখিনি। মা ডাকটা কতটা মধুর তা বুঝেনি। বাবা নামক যে একটা বটবৃক্ষের ছাঁয়া থাকে,সে ছাঁয়াটা কখনো মাড়াতে পারিনি। আল্লাহ্ জন্ম নেওয়ার পরই এতিম খানায় বড় হয়েছি। যখনি সবাই মা ডাক শিখেছে, আমি তখন আলিফ তে আল্লাহ্! মিম তে হযরত মুহাম্মদ( সা.) এর নাম শিখেছি। আল্লাহ্ যেদিন ঈদের দিন দেখলাম, রাস্তায় একটা মা তাঁর সন্তানকে গালে মুখে চুমু খাচ্ছিল তখন আমি আসমানের দিকে তাকিয়ে তোমাকে বলেছিলাম” হে আল্লাহ তুমি নাকি আসমানে থাকো। তুমি নাকি সবার ডাক শুনতে পারো? আচ্ছা আল্লাহ আমি ছোট মানুষ আমার ডাক ও কী শুনতে পাও তুমি? আল্লাহ্ আমি তোমার কাছে একটা অনুরোধ করি আমি আমার মাকে একটি বার দেখতে চায়। মা বলে ডাকতে চায় দেখাবে আমাকে!! তবুও তোমার প্রতি অভিযোগ করেনি। আল্লাহ্ আমার স্বামীকে হেদায়েত দান কর।আমার স্বামীর বাড়ি ছাড়া যে আর কোন জায়গা নেই যাওয়ার। ছোটবেলা থেকেই এতিমখানায় বড় হয়েছি। তোমার কাছে প্রার্থনা আমার স্বামীকে পূণাঙ্গ মুমিন বানিয়ে দাও। হে পরম করুণাময় আমি আমার স্বামীকে নিয়ে জান্নাতে থাকতে চায় দিবে কী সে জায়গা? আল্লাহ্ এতিমের কথা শুনবে না তুমি? তোমার কাছে তো আমি কোনদিন কিছু চায়নি। আমি আজ আমার স্বামীকে চাই। আমার স্বামীকে হেদায়েত দান কর আল্লাহ।”
.রাজ কথার মুখে এমন কথা শুনে কি বলবে বুঝতে পারছেনা। যাকে সে মারার প্ল্যান করছে, সেই তাকে নিয়ে জান্নাতে নিয়ে থাকতে চায়। এত অবহেলা অত্যাচার করার পরও একটিবার অভিশাপ দেয়নি। আল্লাহ তুমি আমার চোখ খুলে দিয়েছে। রাজ মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে কাঁদছে।
কথা মোনাজাত শেষ করেই পিছন দিকে তাকাতেই দেখে রাজ কাঁদছে।রাজের চোখে পানি দেখে কথার কলিজাটা ফেঁটে যাচ্ছে। কথা রাজের কাছে গিয়ে বলল “কাদঁছেন কেন?”
কথার কন্ঠটা শুনেই রাজ কথায় পা ধরতে গেল।
কি করছেন আপনি এসব?
“কথা আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি অনেক অন্যায় করেছি। আমাকে তুমি ক্ষমা করে না করলে আল্লাহ্ তায়ালাও ক্ষমা করবে না ” ( রাজ)
কথা রাজের মুখে এমন কথা শুনে বলল ” ক্ষমা চাও? “
“হুম”
তাহলে একটু বুকে জড়িয়ে নিবে আমায়?
কথার মুখে এমন কথা শুনে রাজ কথাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরছে। রাজের চোখ থেকে টপটপ করে পানি পড়ছে। কথার চোখের পানিতে রাজের বুক ভেঁজে যাচ্ছে। আজকের কান্না কোন কষ্টের কান্না নয়। আজকের কান্না যে পরম সুখের।
পাঁচ বছর পর,
রাজ আজ পূণাঙ্গ মুমিন। তার মুখে রাসূলের সুন্নাত দাঁড়ি। তাঁদের ঘর আলোকিত করে একটা বাচ্চা এসেছে নাম “তাসনিয়া কারিমা রাইসা”।মেয়েটাকে তাঁর বাবা কুরআন শিক্ষা দিচ্ছে। আজ কথার পাশাপাশি রাজও এিশ পারা কুরআনের হাফেয।
লেখকের কথা : আমাদের আশেপাশে প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই প্রতিটি মা বোনকে বলতে চায় আপনারা ধৈর্য্যহারা না হয়ে,বিশ্বাস রাখুন আল্লাহ তায়ালার প্রতি। নিশ্চয় আল্লাহ্ তায়ালা ধৈর্য্যশীলদের পাশে রয়েছেন। আমাদের সকলকে আল্লাহ্ ও রাসূলের পথে চলতে পারি যেন।

Tagged : / /

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *