ধোকা পর্ব – ০২ || হৃদয় চৌধুরী


Hridoy Chawdhury

আমি পেছন থেকে ওর কোমরে এক পাশে জড়িয়ে ধরে অন্য হাতে তোড়াটা পেছন থেকেই ওর সামনে ধরলাম..
ওর পেটে হালকা চাপ দিয়ে আস্তে আস্তে ওর কানে ফিসফিস করে বললাম,
-ফর ইউ সুইটহার্ট…
হাসিমুখে ওর রিয়েকশনের ওয়েট করছিলাম আমি…
ও হয়তো ফার্স্টের টাচে কিছুটা চমকে উঠলো, আর হঠাৎ ওভাবে ওর মুখের সামনে তোড়াটা ধরাতে একদম আৎকে উঠে সরে গেলো আমার থেকে…
ও সরে গিয়ে পিছন ফিরে তাকানোর পর ও আর আমি দুজনেই বড়সড় এক ধাক্কা খেলাম..
আরে এ তো ইশা না!
পলক….!
পলককে দেখেই আমার হাতের তোড়াটা পড়ে গেলো…
-Oh God! I am So Sorry প্লিজ! আমি বুঝতে পারিনাই এটা যে তুমি.. সত্যি বিদ্যা কসম! মাফ করে দিও প্লিজ.. অনেক দুঃখিত..
বলতে বলতে মুখ নিচু করেই কিচেন থেকে বেরিয়ে এলাম.. ফুলের তোড়াটা ওখানের ফ্লোরেই পড়ে থাকলো..
পলককে ঐ মুহুর্তে পিছন থেকে দেখে একদমই চিনতে পারি নি.. পরে তো দুজনই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেলাম..
ছিহঃ কি লজ্জাজনক ব্যাপার! নিজেরই নিজের কাছে খারাপ লাগছে!
রুমে এসব ভাবতে ভাবতে ঢকঢক করে এক গ্লাস জল খেলাম.. একটু পরই খেয়াল হলো, রান্নাঘরে তো পলক আছে.. তাহলে ইশা কোথায়!
কথাটা ভাবতেই কপাল কুচকে গেলো আমার… জলের গ্লাসটা রেখে দ্রুত মায়ের রুমে গেলাম..
গিয়ে দেখলাম তিতাস মায়ের গায়ে কম্বল পড়িয়ে দিচ্ছে… আমাকে আসতে দেখেই ও বলে উঠলো,
-তোকে কিছু একটা বলতে চাইছিলাম, সেটা তো না শুনেই আমাকে চুপ করিয়ে চলে গেলি!
-শুনবো নে পরে, এখন বল্ তোর বউদি কোথায়?
-সেটাই তো বলতে চাইছিলাম গাধা! বউদি রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গেছে..
-মানে কীহ্! একাই..?
-হ্যা রে জানিনা কি হয়েছে.. আমি আর মা বউদিকে আটকানোর অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু বউদি শুনলো না.. শুধু বললো, তুই যাতে আর বউদিকে ফেরত আনতে না যাস!
-What the! তুই আমাকে কল দিলি না কেন তখন!
-শয়তান দেই না আবার! বাট কল তো যাচ্ছিলো না!
তখনি মনে পড়লো ফোনে তো চার্জ ছিলো না, হয়তো বন্ধ হয়ে গেছিলো..
হাত-মুখটা ধুয়ে ফ্রেশও হলাম না আমি.. মাকে বলে বাইক নিয়ে পড়লাম ইশার বাসার উদ্দেশ্যে…
আসার সময় পলককে বলে এলাম যাতে মা আর তিতুসহ একটু বাসার খেয়াল রাখে…
আমাদের বাসার বিপরীতেই থাকে পলকেরা.. ওর আর আমাদের পরিবারে বেশ ভালোই সম্পর্ক..
পলকও বেশ ভালো একটা মেয়ে.. মা আর তিতুর সাথে বেশ ভালো সখ্যতা ওর.. যদিও আমার সাথে তেমন কথা হয় না.. যাই হোক, ওর উপরই ওদের সাময়িক দায়িত্ব দিয়ে চলে গেলাম ইশাকে আনতে…
ইশাকে ফাকে ফাকে কলও দিচ্ছিলাম, কিন্তু রিসিভ করছিলো না.. পরে ফোনটাই দেখলাম সুইচড অফ করে দিলো!
হঠাৎ কি হলো ইশার! আগে তো কখনো এভাবে বাপের বাড়ি যায় নি, তাও আবার না বলে! সকালের জন্যই কি করলো এমন!
মাথায় হাজারো প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিলো.. এসব ভাবতে ভাবতেই পৌছে গেলাম শ্বশুরবাড়িতে..
.
কলিংবেল চাপতেই শ্রদ্ধেয় শাশুড়ি মা দরজা খুলে দিলেন.. উনি আমাকে দেখেই অবাক হয়ে গেলেন,
-আরে জামাই বাবা এসেছো! আসো আসো ভেতরে আসো….
আমি উনাকে প্রণাম করে জিজ্ঞেস করলাম,
-উম ইশা এসেছে?
-হ্যা বাবা দেখো না! মেয়েটা কথা নেই বার্তা নেই, হঠাৎ ই এসে হাজির! তখন থেকে আমরা সবাই জিজ্ঞেস করে যাচ্ছি কি হয়েছে কি হয়েছে.. কোনো উত্তর ই দিচ্ছে না..
-ওহ্ আচ্ছা কোথায় ও এখন..?
-যাও দেখো ড্রয়িংরুমে আছে যেমন..
আমি ভেতরে ড্রয়িংরুমে গিয়ে দেখলাম ইশা একা একা রিমোট নিয়ে টিভি দেখছে..
ওর মুখে কেমন যেন এক গম্ভীর ছাপ.. আমাকে দেখে ও আড়চোখে তাকালো.. নজরে খানিকটা অগ্নিদৃষ্টি ফুটে উঠলো..
আমি ধীরে ধীরে গিয়ে ইশার পাশে বসলাম.. ইশার চোখ আর চেহারার ভঙ্গি দেখে নিজেকে একটু অপ্রস্তুত লাগছিলো..
ইশা সেকেন্ড টাইম ভুল করেও আর আমার দিকে ফিরে তাকায় নি.. একদম স্থিরদৃষ্টিতে টিভির দিকে তাকিয়ে আছে,
কীভাবে ওর সাথে কথা শুরু করবো, বুঝতে পারছিলাম না.. কিছুক্ষণ ওর পাশে সোফায় চুপচাপ বসে থাকলাম..
খানিক বাদে একটু নড়েচড়ে কিছু বলতে যাবো, তখনই ইশা একটা রাগের দম ফেলে আমার দিকে ফিরে তাকালো,
-কিচ্ছু বলতে হবে না তোমার.. চুপ থাকো..
বলেই ইশা রিমোটটাকে এক ঝটকায় সোফায় ফেলে চলে যাচ্ছিলো…
আমি তাড়াতাড়ি কোনোমতে পেছন থেকে ওর হাত ধরে আটকালাম ওকে…
আচলে ধরতেই ইশা আবারো নাক ফুলিয়ে তাকালো আমার দিকে,
-হৃদয় হাত ছাড়ো!
আমি একটা হাসি দিয়ে সোফা থেকে উঠে ওর কাছে গিয়ে দাড়ালাম.. ওর হাতটা না ছেড়ে আরো দুইহাত দিয়ে আকড়ে ধরলাম,
-ইশা.. কী হয়েছে তোমার বলো? সকালের জন্য করছো এমন?
ইশা কিছু বললো না, শুধু বিরক্তিভাব নিয়ে অন্যদিকে মুখটা ফিরিয়ে নিলো..
-শুধুমাত্র সকালের ব্যাপারটার জন্য এতোকিছু ইশা? একটু কি রাগও দেখাতে পারবো না তোমায়? আর আমি তো ভালোবাসা থেকেই বললাম রে এতোকিছু.. তার জন্য এভাবে রাগ করবা আমার সাথে?
ইশা দেখলাম কোনো কথা বলছে না.. মুখেও অভিমানের ছাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে.. ব্যাপারটা বুঝতে পেরে কান ধরে Sorry বললাম ইশাকে,
-আচ্ছা আর কখনো করবো না এমন.. প্লিজ মিষ্টি বউ আমার.. বাড়ি চলো.. প্লিজ প্লিজ..
ইশা আড়চোখে তাকালো আমার দিকে.. ওর নজরটা একটু ঠান্ডা হলো বলে মনে হলো.. ঝড়টা সামলে নেওয়া যাচ্ছে তাহলে..
কান ধরে বউয়ের মান ভাঙাচ্ছি, তখনি ছোট শালি ইনু এসে হাজির..
-জামাইবাবু ফ্রেশ হয়েছেন? চলুন আড্ডা দিতে দিতে ডিনারটা করা যাবে..
-না না.. আমরা তো এখনি চলে যাবো.. ইশাকে নিতে এসেছিলাম..
তখনি আবার কোথা থেকে ইশার মাও এসে যেতে বাধা দিলেন..
-আরে কিসের যাওয়া! আজ আর যাওয়া-যাওয়ি হচ্ছে না, একে তো একটু আগেই আসলে মাত্র.. তার উপর রাত হয়ে গেছে.. থাকবে আজকে.. কালকে বরং চলে যেও.. (শ্বাশুড়ি)
-আরে আমার অফিস আছে.. আর মা আর তিতুকে বলে এসেছি ইশাকে ছাড়াও যাবো না..
-আচ্ছা তাহলে কালকে সকাল সকাল দিদিকে নিয়ে চলে যাইয়েন প্লিজ প্লিজ.. (ইনু)
-হ্যা সেটাই ভালো হবে.. থেকে যাও আজকে.. (শ্বাশুড়ি)
-উমম..
অতঃপর ওদের জোরাজুরিতে ঐদিন শ্বশুরবাড়িতেই থেকে যেতে হলো..
.
রাতে ওখানে খাওয়া দাওয়া সেরে বাসার খোজ-খবর নেওয়ার জন্য পলকের কাছে ফোন করলাম.. তিতু আর মায়ের ডিনার আর ওষুধের খোজ নিলাম.. হঠাৎ ই সন্ধ্যার কথাটা মনে পড়লো.. ও কীভাবে নিয়েছে জানিনা.. তাই আবারও ক্ষমা চেয়ে নিলাম,
-পলক, সন্ধ্যার মিসটেকটার জন্য আমি অনেক অনেক দুঃখিত.. আমি সিরিয়াসলি জানতাম না ওটা তুমি.. Actually শাড়ি পড়া দেখে গুলিয়ে ফেলেছিলাম.. ডোন্ট মাইন্ড প্লিজ..
-ইটস ওকে…
-বাই দ্য ওয়ে, শাড়ি পড়েছিলে কেন তুমি?
-ভাইয়ের পিচ্চিগুলোর সাথে খেলছিলাম একটু শাড়ি পড়ে.. তার মধ্যেই তিতু গিয়ে রান্নার জন্য ডেকে আনলো..
কথাটা শুনেই হেসে দিলাম আমি,
-হায়রে! পিচ্চিদের সাথে তুমিও পিচ্চি হয়ে গেলে.. ভালোই ভালোই..
-হুম.. আচ্ছা ঘুমাও এখন..
-হ্যা গুড নাইট..
-হুম..
ফোনটা রেখে পেছনে তাকাতেই দেখলাম ইশা রুমে এসে দরজা লাগাচ্ছে..
ওকে দেখেই আমি ফোনটা বিছানায় ফেলে দিয়ে ইশার কাছে গিয়ে ওকে সরাসরি কোলে তুলে নিলাম..
ইশা হঠাৎ এভাবে কোলে তুলে নেওয়ায় কিছুটা আৎকে উঠলো.. ও আমার কাধে হাত রেখে অবাক চোখে তাকালো..
আমি ওর নাকে একটু আমার নাকটা হালকা ঘষিয়ে দিয়ে বললাম,
-বউটা আমার সকাল থেকে রাগ করে আছে.. হয়তো এখনো আছে রাগ.. তো আশা করি, আদর করলে যতোটুক রাগ বাকি আছে, সব ফুরুৎ হয়ে যাবে..
বলতে বলতে ইশাকে কোলে করে বেডের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম..
.
.
(চলবে)

Tagged : / /

চিত্তের আর্তনাদ || একে আজাদ


চিত্তের আর্তনাদ

Person
Ak Azad

দুঃখকে আমি করেছি আপন
সুখের সাথে আড়ি,
মন গহীনে চির আর্তনাদ
সুখ গিয়েছে ছাড়ি।
সুখ সুখ বলে এখন আর
করিনা সুখের আশা,
তিল তিল করে গড়ছে চিত্তে
দুঃখ পাখির বাসা।
এ জীবন সার
তবুও
বৃথা ক্ষয় করছি বারবার,
তবুও যেনো আসেনা ফিরে
সুখ পাখিটা আবার।
সুখী আমি হতে চাইনা
চাইনা গড়তে সুখের সংসার,
দুঃখ আমায় দূরে দিলেও
আঁকড়ে ধরবো বারেবার।

Tagged : / /