ধোকা পর্ব – ০৪ || হৃদয় চৌধুরী


Hridoy Chawdhury

আমিও ওখানে গিয়ে ইশার পেছনে থেকে দুদিকে রেলিংয়ে ধরে ওকে আমার আর রেলিং এর মাঝখানে আটকে নিলাম..
পেছন থেকে ওর বাম গালে আমার ডান গালটা আলতো করে একটু ঘষিয়ে দিলাম..
ইশা কিছুটা চমকে উঠে হালকা ফিরে তাকালো আমার দিকে…
আমি ইশার গালে একটা ছোট্ট চুমু খেয়ে বললাম,
-বউ রে আমার! তোমার সাথে কথা না বলে থাকতে খুব কষ্ট হয়.. ভালোবাসি খুব..
ইশা যে ফোনে কথা বলছিলো সেটা খেয়াল করিনি.. ঐসময় ওভাবে ওকে ধরার জন্য ও বেশ বিরক্তিভাব নিয়ে তাকালো আমার দিকে,
-ফোনে কথা বলছি সেটাও দেখো না.. সবসময় এতো চিপকে থাকার স্বভাব কেন! এসব আদিখ্যেতা ভালো লাগে না প্লিজ!
বলেই ও আমাকে সরিয়ে দেখে বেলকনি থেকে রুমের দিকে চলে গেলো..
আমি ওর চলে যাওয়ার দিকে নির্বাকভাবে তাকিয়ে থেকে আবার ফিরে বেলকনির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে থাকলাম…
হঠাৎ কারোর ডাকে নিচের দিকে তাকালাম.. দেখলাম পলক নিচে থেকে ডাকছে আমাকে..
ওর দিকে তাকাতেই ও চেচিয়ে উঠলো,
-ঐ! সেই কখন থেকে ডাকছি! শুনতে পাও না নাকি! কোন হুশে থাকো..?
-না মানে…. কিছু না.. বলো ডাকছো কেন?
-তোমার ফেভারিট নুডুলস রান্না করেছিলাম.. খাবে এসো..
-ভালো লাগছে না..
-খাবে না?
-না রে.. তুমি খেয়ে নাও..
পলকের মুখটা কিছুটা ফ্যাকাশে হয়ে গেলো,
-আচ্ছা.. তিতুকে পাঠিয়ে দাও…
-হুম..
পলক চলে গেলো ওখান থেকে.. কিছুক্ষণ ঠায় বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থেকে নিচে গিয়ে তিতুকে পলকের বাসায় যাওয়ার কথা বলে এলাম…
.
এভাবেই গেলো কয়েকদিন… সন্ধ্যাবেলা একদিন অফিস থেকে এসে দেখি ইশা চিল্লাচিল্লি করছে.. খানিক বাদে বুঝতে পারলাম তিতুকে ঝারি দিচ্ছে ও..
তিতু নাকি কেয়ারলেস.. ঘর-টর যে সবসময় এলোমেলো থাকে, সেটা খেয়াল করে কখনো গুছিয়ে রাখে না..
ঘরের একটা টুকরাও নাকি সরিয়ে দেখে না তিতু.. কাজ-টাজ তো দূরের কথা.. এসব উছিলা শুনে মেজাজটা ঠিক থাকলো না আমার…
আরে তিতু ছোট মানুষ মাত্র! স্কুলে সামনে এক্সাম ওর.. স্টাডি ছাড়া ও আর কি কাজ করবে..
আমি যতদূর জানি তিতুকে, ও যথাসম্ভব হেল্প করে ইশাকে.. কিন্তু তবুও ইশার এমন করার তো কোনো মানে হয় না..
এটা নিয়ে ইশার সাথে ঐদিন খুব কথা কাটাকাটি হলো.. সেদিনের পর থেকে প্রায়ই আমাদের মধ্যে নিতান্ত ছোটখাটো বিষয় নিয়েও ঝগড়া হতে থাকে..
সুখের সংসারটা থেকে ভালোবাসা আর শান্তি -দুটোই যেন কোথাও হারিয়ে যাচ্ছিলো..
আমার আর ইশার বিয়েটা পারিবারিক ভাবেই হয়েছিলো.. এর আগে অন্য কোনো মেয়ের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক ছিলো না..
তাই ইশাকেই আমার সব ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছিলাম… কিন্তু ইশা কি আদৌ বুঝতে পারে আমাকে!
ইশা এখন কেমন যেন একা একা থাকতেই পছন্দ করে.. ওর কাছে একটু ঘেষাঘেষি করলেই ও মেজাজ দেখানো শুরু করে..
খুব খারাপ লাগে তখন.. বুকটা চিনচিন করে উঠে.. কীভাবে নিজেকে সামলাবো বুঝে উঠতে পারিনা..
.
একদিন রুমে বসে ল্যাপটপে অফিসের কাজ করছিলাম.. একটু পর তিতু এসে বললো যে মা নাকি ডাকছে আমায়…
ল্যাপটপটা রেখে মায়ের রুমে গেলাম.. যেতেই মা আমাকে মায়ের পাশে বসতে বললো..
আমি মায়ের পাশে বসে মায়ের একটা হাত আকড়ে ধরে জিজ্ঞেস করলাম,
-কী হয়েছে মা? ডেকেছো?
মা আমার কাধ থেকে পিঠে হাত বুলিয়ে বললো,
-বাবা রে.. কয়েক মাস ধরে দেখছি, তোর আর ইশা মায়ের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হয়.. কেন রে? কিছু হয়েছে?
আমি মায়ের প্রশ্নে মাথাটা নিচু করে ফেললাম,
-মা… কী উত্তর দেবো.. এভাবে ইশার সাথে প্রতিনিয়ত কথা কাটাকাটি করতে চাই না আমি.. কিন্তু ওর বিহেইভিয়ার গুলোই আমাকে ওইরকম করতে বাধ্য করে.. কয়েক মাস ধরে ওর পরিবর্তনটা দেখছো তুমি! মা এসব সহ্য হয় না আমার..
মা এবার একটা প্লাস্টিক হাসি দিয়ে আমার চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে আমার দিকে তাকালেন,
-ঝগড়া আর চিন্তা, কোনোটাই করিস না আর.. দেখিস সব ঠিক হয়ে যাবে..
-হাহ্! আর কিছু ঠিক হওয়ার নেই মা.. ইশা হয়তো এই পরিবর্তন টাতেই হ্যাপী আছে খুব..
-হয়তো ইশার বেশ অভিমান হয়েছে তোর উপর.. তাই এমন করে..
-না মা… অন্য কিছু হয়েছে হয়তো.. যেটা তুমি আমি কেউই বুঝতে পারছি না.. যাই হোক মা, অফিসের কাজ আছে অনেক.. যাই এখন..
-আচ্ছা যা..
-হুম..
মায়ের রুম থেকে অফিসের কাজের বাহানা দেখিয়ে চলে আসলাম… যদিও সত্যিই অফিসের কাজ আছে, তবুও আসল পয়েন্ট ছিলো ইশাকে নিয়ে ভেতরের চাপা কষ্টটা.. ভালো লাগে না আর..
.
সেদিন হঠাৎ ই পলক আমাকে জিজ্ঞেস করে বসলো,
-হৃদয়, ইদানিং যেন খুব শুকিয়ে যাচ্ছো তুমি… কিছু হয়েছে রে?
পলকের প্রশ্নে খুব অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম আমি.. বুকটা কেপেও উঠেছিলো, এটা ভেবে যে, পলকও আমার এতোকিছু খেয়াল করে! অথচ ইশা আমাকে দুই ভাগও বুঝতে পারে কিনা সন্দেহ আছে…
এসব ভাবতে ভাবতে একটু পর পলকের ডাকে হুশ ফিরলো আমার..
-কি রে! (পলক)
-এ? কই কিছু না তো..
-শরীর মন ঠিক আছে তো তোমার?
-হ্যা সবই ঠিক..
বলেই প্রসঙ্গ এড়ানোর উদ্দেশ্যে ওখান থেকে চলে এলাম..
আসার সময় একবার ফিরে তাকিয়েছিলাম পলকের দিকে.. ওর নজরে কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ করলাম আমি..
যাই হোক, ওটা পাত্তা না দিয়ে আবার ইশার চিন্তাতেই ডুবে গেলাম..
বিয়ের প্রথম প্রথম তো খুব ভালোই একটা সুখী দম্পতি হিসেবে দিন কাটাচ্ছিলাম আমরা.. বেশ ভালোই যাচ্ছিলো সব..
কিন্তু কয়েকমাস পরেই যেন সব উলোটপালোট হয়ে গেলো.. ইশার মধ্যেও কতোসব পরিবর্তন দেখা দিচ্ছিলো.. কেন হচ্ছিলো এসব!
ভালোবাসা দিতে তো কম দেই না ইশাকে! তাহলে ইশা কি আমার ভালোবাসা বুঝে না? নাকি বুঝতে চায় না!
ঈশ্বর! আমার ইশাটা আমার সাথে কেন করে এমন, কেন করে!
রাতেও এখন এসব ভেবে ভেবে আর ঘুম আসে না..
সারারাত শুধু এপাশ ওপাশ করি.. নাহয় রুমের মধ্যেই পায়চারি করি..
ইশা তো এসবের খেয়াল রাখে না.. খুব শান্তিতেই ঘুমায়.. আর আমি সারাটা রাত ওর ঘুমন্ত চেহারাটা দেখে কাটিয়ে দেই..
.
এভাবেই কাটছিলো আমার দিনগুলো…
.
অফিসে একদিন কাজ করতে করতে শরীরটা খুব খারাপ লাগছিলো… তাই ঐদিন দুপুরের দিকেই বাড়ি ফিরে আসলাম..
বাসায় এসে দরজা খোলা দেখে খুব অবাক হলাম.. তিতু আর মা তো মামার বাড়ি.. আর ইশা তো একা থাকলে সবসময় দরজা লাগিয়েই রাখে..
তাহলে ইশা কি দরজা খোলা রেখে বাইরে টাইরে গেলো নাকি! এসব ভাবতে ভাবতে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম..
ভেতরে ঢুকতেই একদম অবাক হয়ে গেলাম আমি.. আমার চোখের সামনে প্রীতম ইশার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে…
ওরা আমাকে হঠাৎ দেখে একদম চমকে উঠলো.. নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি.. কিছুক্ষণের জন্য একদম থমকে গেলাম..
খানিকক্ষণ হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ ই ক্রোধের দৃষ্টিতে প্রীতমের দিকে এগিয়ে গেলাম আমি..
গিয়েই দুইহাতে শক্ত করে প্রীতমের কলারটা চেপে ধরলাম আমি,
-কুত্তার বাচ্চা! এত্তোটা বিশ্বাস করতাম তোকে.. আর তুই এভাবে আমার সাথে বেইমানী করলি! ভাই হয়েও তুই………. ছিহঃ
তৎক্ষনাৎ ই ইশা এসে এক ঝটকায় প্রীতমের কলার থেকে হাত ছাড়িয়ে গলা উচিয়ে বললো,
-হৃদয় প্লিজ! আই লাভ প্রীতম!
ইশার মুখে এমন কথা শুনে একদম হতভম্ব হয়ে গেলাম আমি.. আমার চোখের সামনে সব যেন অন্ধকার দেখছিলাম আমি..
.
.
(চলবে)

Tagged : / /

সেই তুমি || সৌরভ সাধুখান

Person
Sourav Shadhukhan

আজ অনেক দিন পরে মোবাইলের নেট টা অন করলাম মানে প্রায় ২ টো বছর পরে।হঠাৎ করেই মোবাইল টা কাপতে শুরু করলো।হাজারো মেসেজ, হাজারো নটিফিকেশন, হাজারো ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এসে ভর্তি হয়ে গেল ফোন টা।
প্রথমেই ফেসবুকে ঢুকলাম।
ঢুকেই দেখি হাজারো মেসেজ এসে ভর্তি হয়ে আছে।মেসেজ গুলো ঠিক এই রকমের ছিল।
-ভাইয়া আপনার কি হয়েছে?
-আপনি আর ফেসবুকে আসেন না কেনো?
-ভাই গল্প আর লেখেন না কেন?
-ভাই তুই কোথায়?
-কীরে আবির তোর কি হয়েছে?
সবার শেষে সেই চেনা মানুষটার মেজেজ ভেসে এল মোবাইলের স্ক্রিনে।
মানে যার জন্য এই ফেসবুকের জীবন টা ছারতে হয়ে ছিল।
মানে সেই জান্নাতের।ওর মেসেজ টা ঠিক এমন ছিল
-কীরে দুরে চলে যাচ্ছিস তো ! যা আর কোনো দিনও তোকে কাছে আসতে বলবো না।শুধু এই টুকু জেনে রাখ।আমি ভাল নেই. . . ! ! !
আমি কোনো রিপ্লই করলাম না।দেখলাম অনলাইনেই আছে ।
অতপর নটিফিকেশনে গেলাম।
তারপরে কমেন্ট গুলো দেখতে শুরু করলাম।
দেখছি লাস্ট পোস্টে কমেন্ট ২k. লাইকও এসেছে ৫k
কিছু কমেন্টের রিপ্লায়ও করলাম।
হয়তো তারা আজ আমাকে ভুলেই গেছে।আমি হয়তো এখন আর ৫টা সাধারন মানুষের মতই হয়ে গেছি!
অতপর রিকুয়েস্ট গুলো দেখা শুরু করলাম।খুব বেশি না হলেও প্রাই ৪০০+ ছিল।
এরপরে কিছু রিকুয়েস্ট এক্সেপ্টও করলাম।
এরপরেই সেই চেনা জান্নাতের আইডিটা থেকে একটা মেসেজ আসলো।
-কিরে. . . ! ! ! রিপ্লাই করছিস না কেনো? ভালোই তো অনলাইনে আছিস দেখতে পারছি!
আমি এটা দেখে কি রিপ্লাই দেবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
-কিরে. . কেমন আছিস? তোর বড় কেমন আছে? আর তোর সন্তানেরা কেমন আছে? (আমি)
-আরে আমার বিয়ে হয়েছিল ঠিকি কিন্তু আমার বড় নেই।
-কেন? কি হয়েছিল?
-আমার বিয়েতে বিয়ের আগে ২ লাখ আর পরে ৩ লাখ পন দেওয়ার কথা ছিল।
প্রথমে তো ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল।তারপরে বিয়ে হলো আমাদের আর আমার বড় আমাকে নিয়ে আমেরিকা তে চলে আসে কিন্তু তার পরেই হয় ঝামেলা।হঠাৎ করেই বাবার শরির খারাপ হয়ে পরে ।আর সেই ৩ লাখ টাকা থেকে আমার বাবার পেছনে ২ লাখ টাকা খরচা হয়ে জায়।
তারপরে যখন বাবা সুস্থ হওয়ার পরে বলে যে ২ লাখ টাকা কিছুদিন নাবহলে আমরা দিতে পারবো না।তখন ওরা আমাকে আমার বাবার বারিতে রেখে যাই আর তারা আজ পর্যন্ত আমাকে নিতে আসেনি।
-কি সব উল্ট পাল্টা বলছিস তুই. . ! !
-সত্যি বলছি ।
-কিন্তু. . !
-কি?
-কিছুনা।
-আচ্ছা বল তুই বিয়ে করেছিস তো. . ! তোর বৌ কেমন রে. . ! খুব কিউট তাই না. . ! আর তোর বাচ্চা . . ! ! !
-নারে কেও একজন বলেছিল যে আমাকে অনেক ভালবাসে. ।আমার সাথে কথা না বলে নাকি তার রাতে ঘুম আসেনা।আমাকে না দেখতে পেলে নাকি সে ভাল থাকতে পারে না।আমাকে না পেলে নাকি সে বাচতে পারবে না. . ! কিন্তু সেই একদিন তার এই ভালবাসা টাকে মিথ্যে প্রমান করে আমাকে ছেরে চলে গেছিলো।
-এখনো আমার ওপরে রাগ করে আছিস. . !
-না । রাগ করার জন্যও একটা সম্পর্ক থাকতে হয়।
-তাহলে. . . ! !
-কিছুনা।
-তুই কি সত্যিই বিয়ে করিস নি?
-এক কথা বলতে বার বার ভাল লাগে না।
-ওকে।
-আর তুই এখন কি দেশেই আছিস. . . ! ! !
-হ্যা। বাবার কাছেই আছি।
-ভাল।
-আর বল আজ কাল কি করছিস?
-এই তো একটা ছোট খাট জব করছি।
-ভাল।তোর বাড়ির সবাই কেমন আছে?
-যাদের থাকার কথা ছিল তারা আজ আর কেউ কেউ বেচে নেই।আর জাকে নিজের ভেবে আকরে বেচে থাকতে চেয়ে ছিলাম সে আজ আর আমার নেই।
-এখনো অভিমান করে আছিস?
-আভিমান তো নিজের আপন মানুষের উপরেই করা যায়।
-তাহলে একটা বিয়ে করছিস না কেন?
-কেউ একজন বিয়ে করবে বলে অন্য কারো হাত ধরেছিল।আর আমায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল।
-আর কাউকে ভালবাসিস নি?
-ভালবাসতে গেলেতো একটা হৃদয়ের প্রয়জন হয়।
-তো? তোর হৃদয় টাতো অনেক বড়।যেমন করে আমাকে সেই হৃদয়ে জাইগা দিয়ে ছিলিস সেই হৃদয়ের কোনে অন্য কাউকেও একটুখানি জাইগা দিতে পারতিস. . . ! ! !
-সেই হৃদয় টাই একদিন কেউ ভেঙে দিয়ে ছিল।আর সেই হৃদয়ে সেই নাম টাই এখনো পর্যন্ত লেখা আছে।যেখনে আর অন্য কারোর নাম লেখাটা অসম্ভব ছিল ।(আমি)
-তাহলে আমি যদি এখন ফিরে আসতে চাই তাহলে কি আমাকে মেনে নিতে পারবি. . . ! আমার এই অসতি শরির টাকে কি মেনে নিতে পারবি. . . ! ! !
-আসার চেষ্টা করেই দেখ।আমি তো কারো শরীর টাকে ভালবেসে ছিলাম না ! আমিতো কারো হৃদয় কে ভালবেসে ছিলাম। যেটা কোনো দিনও অসতী হতে পারে না।
-আমাকে কী এখনো ভালবাসিস।
-জানিনা। তবে এখনে রাতের বেলা ঘুমনোর সময় কারো কথা মনে পরলেই বুকের বাম পাশ টাতে চিন চিন করে ওঠে। কোনো একটা কারনে একটা মায়াতে জরিয়ে আছি বলে মনে হয়।যেটা থেকে বেড়িয়ে যাওয়া অ সম্ভব বেপার।
-তার মানে?
-কিছুনা।
-আমাকে মিস করিস?
-জানি না।তবে মাঝে মাঝে কারো কথা মনে মনে পরলে দুটি চোখ দিয়ে অবিরাম জল ধারা ঝরে পরে।
-খুব কষ্ট দিয়েছি আমি তাই না? ?
– জানিনা।তবে কেউ একজন ছেড়ে যাওয়ার পরে খুব করে কেদে ছিলাম।সারা দিন সারা রাত। কাউকে হারানো খুব বেশি ভয় পেয়ে ছিলাম সেই সময় টাতে।
-তার মানে?
-কিছুনা।
-আমাকে পেতে চাস?
-জানিনা।তবে কাউকে কাছে পাওয়ার জন্য মন টা সব সময় বেকুল হয়ে থাকে।কাউকে দেখার জন্য চোখ দুটি কেমন জানি অাসফাস আসফাস করে।
-আমাকে কি মেনে নিতে একটুও খারাপ লাগবে না?
-জানি না তবে না মানার কোনো জাইগা ওতো নেই।
-আমাকে মেনে নিলে সমাজ কি তোকে মেনে নেবে? ?
-সমাজের পরওয়া করি না। একদিন বাবা, মা মারে যাওয়ার পরে সবাই আমাকে ছুরে ফেলে দিয়েছিল।
-আমরা কি একটা নতুন সংসার তৈরি করতে পারি? ?
-জানিনা তবে সংসার করার একটা শখ আছে।আর শুনেছি কোনো একটা জিনিস কে যদি মন থেকে চাওয়া জাই, তাহলে নাকি পুরো দুনিয়া সেটা তোমাকে পায়িয়ে দেওয়ার জন্য অবিরাম চেষ্টা করে।
– তুই কোথায় আছিস? ?
-সেই পুরোনো বট তলাই।
-আমি কি এখনি আসবো?
– জানিনা তবে কেউ আসতে চাইলে আমি তো তাকে আটকে রাখতে পারি না।
এই মেসেজ টা দেখেই জান্নাতের চোখ দিয়ে অবিরাম ভাবে জল পরতে থাকলো।এটা কোনো শোখের কান্না না।এটা হলো আনন্দের কান্না।
আর অপর দিকে আবিরের চোখ দিয়েও অবিরাম ভাবে জন গরিয়ে পরতে লাগলো।
সো এখান থেকে আমরা একটাই জিনিস জানতে পারি।যে ভালবাসা কখনো শেষ হয়ে যাই না।ভালবাসা মানে ভালবাসা। এটাকে কোনো কিছুর সাথে তুলনা করা যাই না।
হয়তো এটা হাজারো কষ্টের ভিরে লুকিয়ে থাকে কিন্তু কখনো শেষ হয়ে যায় না।হয়তো হাজারো অভিমানে পেছনে থেকে জাই।কিন্তু মাত্র কতো গুলো কথার কারনে সেটা বেড়িয়ে আসতে বাধ্য।
সমাপ্ত

Tagged : / /

ধোকা পর্ব – ০৩ || হৃদয় চৌধুরী


Hridoy Chawdhury

আমি কোলে করে নিয়ে ইশাকে ধীরে ধীরে বেডে শোয়ালাম.. অতঃপর আমিও ওর উপর হালকা শুয়ে ওর মুখের সামনের চুলগুলো সরিয়ে দিচ্ছিলাম..
ইশা অজানা এক অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে.. আমি ওর ডান কানের নিচে ধরে আস্তে আস্তে আমার মুখটা ওর দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলাম..
ইশার বাম গালে আলতো করে আমার ঠোটটা ছুয়ে দিয়ে একটা চুমু খেলাম…
ইশা চোখ বন্ধ করে ডান দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো.. আমি চুমু খেয়ে ওর দিকে তাকালাম..
আমার গরম নিঃশ্বাসটা ওর বাম কানের দিকে পড়ছে..
ইশার বাম হাতের উপর আমার ডান হাতটা ছড়িয়ে ওর আঙুলগুলো আকড়ে ধরলাম..
আমার বাম হাতটা ওর গলায় আলতো করে রেখে আমার ঠোটটা ওর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম..
হঠাৎই ইশা আমাকে একটা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বেড থেকে উঠে গেলো..
শাড়ি ঠিক করতে করতে ও আমার উদ্দেশ্যে বললো,
-হৃদয় ভালো লাগে না এসব প্লিজ!
ওর এমন বিহেইভে আমি একদম অবাক হয়ে গেলাম.. এমন কিছু একদম ই আনএক্সপেক্টেড ছিলো আমার..
-ইশা! কী হলো তোমার..
-ঘুমাও..
-একটু আদরও করতে পারিনা তোমায়! তোমার বিহেইভিয়ার গুলো ইদানীং এতো চেঞ্জ কীভাবে হচ্ছে!
-কিছুই হচ্ছে না হৃদয়… ঘুম পাচ্ছে.. গুড নাইট..
-Ok Fine ঘুমাও!
ঐরাতে দুজন দু’পাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম.. কার মনে যে কি চলছিলো, কিছুই ঠাওর করতে পারছিলাম না…
পরের দিন সকালেই ইশাকে নিয়ে বাড়িতে চলে আসি আমি.. তবে ঐদিনও পুরোটা দিন ইশার সাথে তেমন কোনো কথা হয় নি..
.
নেক্সট দিন অফিসে যাওয়ার জন্য বের হতেই দেখলাম, প্রীতম সুজিত দার এক বছরের ছোট ছেলেকে কোলে নিয়ে হেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে..
প্রীতম আমার জেঠাতো ভাই.. একই সাথের আমরা.. জাস্ট ও কয়েকদিনের ছোট আমার..
মাস দুই দেড়েক হলো বিদেশ থেকে ফিরেছে.. তারপর কয়েকদিন ঘোরাফেরা এখানেই একটা ব্যবসা দাড় করিয়েছে..
ও আমাকে দেখেই সুজিত দার ছোট ছেলে অন্তুকে আমার দিকে আঙুল দেখিয়ে বললো,
-আলে.. ছোত কাক্কু.. অফিস যাবে ছোত কাক্কু, তালপল এত্তো এত্তো চকলেত আনবে তোমাল দন্য.. তাতা দাও তাতা…
অন্তু আমাকে
আমি হাসতে হাসতে অন্তুর দিকে তাকিয়ে হাত নেড়ে টাটা দিলাম..
প্রীতম ওর হাত ধরে টাটা দেওয়ালো.. তারপর আমার উদ্দেশ্যে বললো,
-কখন ফিরবি?
আমি হেলমেটটা পড়তে পড়তে বললাম,
-এইতো ধর্ সন্ধ্যার দিকে..
-ওহ্ আচ্ছা..
-রাতে বাজারে যাবো একসাথে… রেডি থাকিস..
-আচ্ছা..
আমি বাইকটা স্টার্ট করে আরেকটা বার অন্তুর দিকে তাকিয়ে টাটা দিয়ে চলে গেলাম…
.
অফিসে Lunch Time হয়ে গেলো.. ইশার সাথে কথা বলার জন্য ফোনটা হাতে নিলাম..
ফোনটা নিয়ে স্ক্রিনে কিছুটা বিভ্রান্ত দৃষ্টিতে তাকালাম আমি.. এমনিতে তো এমন সময় আগে নোটিফিকেশনে ইশার বেশ কয়েকটা মিসড কল থাকতো..
দুপুর হয়ে গেলো, অথচ কোনো কল ই দেয় নি!
ইশা কোনো ফোন দিচ্ছে না দেখে নিজেই কল দিলাম ওকে..
বেশ কয়েকবার রিং হলো ফোন, কিন্তু ইশা রিসিভ করলো না.. কি ব্যাপার! সাইলেন্ট নাকি ফোন..
ইশা ফোন ধরছে না দেখে তিতুকে ফোন করলাম,
-কিরে, তোর বউদি কই?
-ভাই বউদি তো বাসায়.. আমি প্রাইভেটে আছি এখন..
-অহো! কখন যাবি বাসায়?
-কোচিং টোচিং শেষ করে যাবো.. একদম বিকেলের পর..
-আচ্ছা রাখি তাহলে.. সাবধানে আসিস..
-আচ্ছা..
ফোনটা রেখে ইশার কথা ভাবতে লাগলাম.. ফোন রিসিভ করছে না যে, কী হলো! এভাবেই Lunch Time টা কেটে গেলো..
ইশা ফোনের ধারে কাছেও এসেছে বলে মনে হলো না..
আচ্ছা কোনো কাজে Busy আছে মনে হয়.. হাতের কাছে ফোন নেই হয়তো..
এইটা ভেবে আবার অফিসের কাজে মনোযোগ দেওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম..
টিফিন ক্যারিয়ারটা অবহেলায় ডেস্কের এক কোণে পড়ে আছে… ঐদিন ইশার কথা ভাবতে ভাবতে আর Lunch করা হয়নি..
.
বিকেলের দিকে হঠাৎ করেই টুপটাপ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো.. শীতের মধ্যে এমন মেঘলা দিন মোটেও চিন্তা করা যায় না.. কিন্তু ইদানীং আবহাওয়ার একইসাথে এত্তো পরিবর্তন দেখে অবাকটা হতেই হয়..
বৃষ্টি দেখে ইশার কথা আরো বেশি মনে পড়ছিলো.. কিন্তু ওর কি আদৌ আমার কথা মনে পড়ছে? একটা কল বা মেসেজও তো দিলো না এখন পর্যন্ত…
অফিস থেকে এক কলিগের বাসায় যাওয়ার কথা ছিলো.. কিন্তু দুপুরের ইশার কথাটা ভেবে আর যেতে ইচ্ছা করলো না..
কলিগকে ইনফর্ম করে বাসার দিকে রওনা দিলাম..
.
অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার সময় হঠাৎ রাস্তায় দেখলাম, এক ছাউনির নিচে পলক দাঁড়িয়ে আছে.. আমি দেখতে দেখতে ওর সামনে গিয়ে বাইক থামালাম আমি,
-এই বৃষ্টিতে এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী করছো?
-টিউশন ছিলো.. এখন রিকশার ওয়েট করছি.. (এদিক-ওদিক তাকিয়ে)
-আচ্ছা পেছনে উঠে বসো…
পলক অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো,
-বাইকে..??
-তো কি আমার মাথায়!
-না না থাক! নো নিড.. পেয়ে যাবো রিকশা.. তুমি যাও..
-কি বললাম কানে গেলো না! এই বৃষ্টিতে রিকশা পাওয়া কঠিন আছে.. উঠলে তাড়াতাড়ি উঠো.. হারি আপ!
পলক আমার ধমকে ইতস্তত করতে করতে কোনোমতে ছাউনি থেকে বেরিয়ে বাইকে উঠে বসলো..
নিষেধ করার পরেও ও ওর হাতের ছাতাটা টানিয়ে আমাদের দুজনের মাথার উপর ধরলো..
ঠান্ডায় দাতে দাত চেপে কাপছিলো পলক.. ওর অবস্থা দেখে হাসি পাচ্ছিলো আমার.. ও আমার হাসি দেখে কারণ জিজ্ঞেস করলো,
-এই যে! হাসছো কেন..?
-কই না তো..
পলক কোনো উত্তর দিলো না.. বাইকের লুকিং গ্লাসে দেখলাম শুধু ও লুকিয়ে একটা ভেঙচি কেটেছে আমায়.. আমি সামনে তাকিয়ে একটা নিরব হাসি দিলাম.. আমি ওকে ইশার কথা জিজ্ঞেস করলাম,
-ইশাকে দেখেছো রে দুপুরে..??
-না আজকে যেতে পারিনি তোমাদের বাসায়.. একটু কাজ ছিলো..
-ওহ্ আচ্ছা..
একটু পর বাসার সামনে চলে আসলাম আমরা… পলককে নামিয়ে দিয়ে আমিও বাইকটা ভেতরে সাইড করে চলে গেলাম..
বাসায় গিয়ে কলিংবেল চাপতেই ইশা দরজা খুলে দিলো..
দুপুরের জন্য এমনিতেই আমার মেজাজটা বিগড়ে ছিলো.. তাই এখন ইশা দরজা খুলতেই দুপুরের প্রসঙ্গটা তুললাম..
আমি জুতা খুলে ভেতরে যেতে যেতে ইশাকে জিজ্ঞেস করলাম,
-দুপুরে কোথায় ছিলে..??
ইশা যেন কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়লো.. ও আমার জন্য গ্লাসে জল আনতে আনতে বললো,
-কোথায় থাকবো আবার.. বাসাতেই..
-তুমি জানোনা তোমার সাথে দুপুরে কথা না বলে Lunch করতে পারিনা আমি! ইদানীং এমন করছো কেন তুমি! একটাবার কি কল দেওয়া যেতো না দুপুরে! এতোই Busy ছিলে তুমি!
-হৃদয়! কাজ করছিলাম তো.. বাসায় তো থাকো না, তাই বুঝো না কতো কাজ!
-Ok Ok Fine! মানলাম তুমি কাজ করছিলে, তাই বলে কি কল রিসিভটাও করতে পারো নি তুমি.. কতোবার কল দিয়েছি জানো!
-ফোনের কাছে ছিলাম না.. গোসল নাহয় রান্নাঘরে ছিলাম হয়তো…
-বাহ্! গোসল বা রান্নার পরও কি একটাবার সময় হয় নি আমাকে কল করার? একটা মেসেজও তো দিতে পারতে…
-পরে তুমি কাজে ব্যস্ত থাকবে ভেবে আর কল করিনি..
-ভালো!
ইশার হাতের জলটা না খেয়েই উপরে চলে গেলাম.. ব্যাপারটা আর বাড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই..
ভেবেছিলাম ইশাকে এসে ওটা নিয়ে অনেক কথা বলবো.. কিন্তু ইশার উত্তরগুলোতে একদম নির্বাক হয়ে গেলাম.. এতো চাপা জবাব ওর.. এখন ওর আমার সাথে কথা বলারও সময় হয় না একটু!
যেখানে ইচ্ছা বা টান এক ফোটাও নেই, সেখানে এক তরফা বলা কথাগুলোও তুচ্ছ হয়!
রুমে এসে ফ্রেস হয়ে একটু পর প্রীতমের সাথে বাজারে চলে গেলাম..
রাতে ইশাও আমার সাথে তেমন কথা বললো না, তাই আমিও কিছু বলার দরকার মনে করলাম.. ডিনার করে সোজা ঘুম দিলাম..
.
পরের দিন সন্ধ্যাবেলা হালকা নাশতা করে রুমে এসে দেখলাম ইশা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে.. আমিও ওখানে গিয়ে ইশার পেছনে থেকে দুদিকে রেলিংয়ে ধরে ওকে আমার আর রেলিং এর মাঝখানে আটকে নিলাম..
.
.
(চলবে)

Tagged : / /