ধোকা পর্ব – ০৮ || হৃদয় চৌধুরী


Hridoy Chawdhury

পলক স্টোর রুমে ঢুকে বাজের শব্দে একদম শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আমায়.. ও বারেবারে ভয়ে শার্টের পিছনে খামচে ধরছিলো.. আমি বেকুবের মতো ওভাবেই স্ট্যাচুর মতো দাঁড়িয়েছিলাম..
পলক চোখ বন্ধ করে আমার বুকের দিকে মুখ রেখে কাপছিলো..
একে তো ভেজা শরীর আমার… তার উপর পলকের ওরকম স্পর্শে এক অদ্ভুত রকমের শিহরণ বয়ে যাচ্ছিলো আমার সারাদেহে…
ইশার জন্য তো কখনো আমি এমন উদাসীন ভাবে এতো কিছু অনুভব করিনি.. পলকের জন্য তাহলে কেন এভাবে আলাদা করে এতো কিছু উদিত হয়!
পলকের এক হাত আমার বুকে, আর অন্য হাত দিয়ে আমার গলায় জড়িয়ে রেখেছে..
ওর কাপুনি দেখে আমার গা শিউরে শিউরে উঠছিলো.. কম্পিত কন্ঠে ওকে জিজ্ঞেস করলাম,
-এতো কাপছো কেন?
-একে তো ঠান্ডা, অপরদিকে ওর বাজের শব্দের ভয়..
-বাজের শব্দে কেউ এতো ভয় পায়??
তখনি আবার জোরে একটা বাজ পড়লো বাইরে… পলক আবারো জোরে এক চিৎকার দিয়ে আমার গায়ের সাথে লেপ্টে রইলো,
-হৃদয়ের বাচ্চা! সব তোমার জন্য….
-যাহ্ বাবা! আমি কী করলাম!
-তুমি ই তো করলে সব! এই বৃষ্টিতে এভাবে ছাদে আসার কী দরকার ছিলো! তোমাকে খুজতে এসেই তো আমিও ফেসে গেলাম..
-কোথায় ফাসলে?
-এই যে নিজেও ভিজলে, সাথে আমিও ভিজলাম… আর সাথে ঐ বাজ! উফফ! কত্তো ভয় করে আমার…
-আহারে… একদম পিচ্চি তো তুমি.. তাই এতো ভয় করে…
-হৃদু! সিরিয়াস আমি! আরেকবার যদি শক্তে বাজ পড়ে, আমি সত্যিই কেদে দেবো…
-ইশ রে এতো ভীতু তুমি!
বলেই পলককে কোলে তুলে নিলাম.. হঠাৎ করেই এভাবে কোলে নিয়ে নেওয়ায় ও কিছুটা আৎকে উঠলো.. আমি ওর দিকে তাকিয়ে চোখ বেকিয়ে বললাম,
-এতো ভয় পেলে চলবে না ম্যাম.. বাইরে যেরকম বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে কখন থামবে, বোঝা যাচ্ছে না.. স্টোর রুমের এই অন্ধকারে না থেকে রুমে যাওয়া দরকার…
-কেন?
-ভিজতে তো দিলে না ভালো করে, এখন যদি গিয়ে চেঞ্জ না করি, দুজনই অসুস্থ হয়ে পড়বো..
-আরেকটু থাকিনা এভাবে… পরে যাই রুমে…
-কেন?
পলক এক ঘোর লাগা কন্ঠে বললো,
-এই প্রথম কোলে নিলে এভাবে… রুমে চলে গেলেই তো নামিয়ে দেবে.. কিন্তু আমার তো এভাবেই থাকতে ইচ্ছে করছে সারাজীবন…
পলকের কথাটায় বুকটা কেমন যেন কেপে উঠলো আমার… দৃষ্টিটা ঠান্ডা হয়ে গেলো আমার…
মুখের মধ্যে এতোক্ষণ যে স্বাভাবিক হাসিটা ছিলো আমার, সেটা যেন ধীরে ধীরে লুকিয়ে গেলো..
এক আবেগ নাড়া দিলো আমার মধ্যে.. কোনো কথা না বলে চুপচাপ পলককে কোলে নিয়ে ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকলাম..
পলক আমার জবাবের কোনো অপেক্ষা করলো না.. আমার গলায় ভালোভাবে জড়িয়ে ও আস্তে আস্তে মাথাটা কাধে রেখে বললো,
-ভালোবাসি হৃদয়..
আমার অন্তরে আবারো ঢেউ খেললো.. কেমন এক অস্থিরতা বিরাজ করছিলো আমার মধ্যে..
ইশার কথা মনে পড়ে গেলো.. ইশাকে যতোটা ভালোবেসেছিলাম, তার এক ফোটাও ওর থেকে ফেরত পেয়েছিলাম বলে সন্দেহ..
কিন্তু পলককে ভালোবাসার ছিটেফোটা দেওয়ার আগেই ও আমার প্রতিটা বিষয় নিয়ে এতোটা সেন্সিটিভ!
ভালোবাসার এক স্পর্শ পেলাম আমি..
যাই হোক, বৃষ্টি বাড়তে পারে.. এখন আপাতত এখান থেকে যাওয়া দরকার.. বৃষ্টি থেকে বাচতে স্টোর রুম থেকে দ্রুত বের হয়ে রুমে গেলাম..
পলক খুব ভালোভাবে গুটিশুটি হয় আমার কোলে ছিলো.. রুমে গিয়ে দুজনেই একে একে চেঞ্জ করে নিলাম…
.
বেশ কয়েকমাস এভাবেই স্বাভাবিকভাবে ভালোয় ভালোয় কেটে গেলো….
.
যদিও এই কয়েকমাসে আমি আর পলক এতোটা কাছাকাছি যাইনি, তবুও আমার আর পলকের সম্পর্কটা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে লাগলো..
পলকের প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা বা ওরকম কোনো টান আছে কিনা জানিনা, কিন্তু পলক যে আমাকে খুব ভালোবাসে সেটা ভালোভাবেই বুঝতাম..
যদিও প্রীতম আর ইশার সাথে মাঝেমধ্যে কথা হয়, তবুও পুরনো সব কথাই প্রায় ভুলে যাচ্ছিলাম আমি.. এখন সব কিছুই স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার মেন্টালিটি হয়ে গেছে আমার..
.
এক ছুটির দিনে বেলা ১২টা বাজিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম.. যখন ঘুম থেকে উঠলাম, পলক তখন রুমে ছিলো না..
একটু পর পলক এসে এতো দেরি করে উঠার জন্য বকা শুরু করে দিলো আমায়…
আমি ওয়াশরুমে ফ্রেশ হচ্ছিলাম.. পলক বিছানা গোছাতে গোছাতে ক্রমাগত বকেই যাচ্ছিলো আমায়.. আর আমি ওয়াশরুম থেকে হাসছিলাম..
একটু পর পলক চেচিয়ে ডাক দিলো আমাকে,
-নবাবজাদা, আপনার ফোন বাজছে..
পলকের কথায় আমি হাসতে হাসতে জবাব দিলাম,
-রিসিভ করো.. আসছি..
বলতে বলতে আমি ওয়াশরুম থেকে বের হলাম.. পলক দেখলাম ফোন হাতে নিয়ে একদৃষ্টিতে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে..
-কি রে.. কে ফোন করলো? রিসিভ করো নাই?
-ইশা ফোন করেছিলো.. কিন্তু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই কল কেটে গেলো..
-ইশা?
আমি পলকের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে দেখলাম ২ঘন্টা আগেও কল দিয়েছিলো.. কিন্তু আমি ঘুমে থাকায় রিসিভ করতে পারিনি..
আমি একটা তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে ফোনটা অবহেলায় বেডে রেখে দিলাম..
-কি হলো? রেখে দিলে যে ফোনটা? ইশা কল দিলো যে… (পলক)
-ধুউর বাদ দাও তো.. দিলে দিসে.. ওর সাথে কথা বলার কোনোরকম ইন্টারেস্ট নেই.. কিছু কিছু মানুষ শুধু কষ্ট দেওয়ার জন্যই কাছে টানে, আর কিছুই না..
-উম… আচ্ছা.. যেটা ভালো মনে করো তুমি..
-হুম…
পলক আমার দিকে একটা হালকা হাসি দিয়ে ওর কাজ করতে লাগলো.. আমিও আয়নার সামনে গিয়ে চুলটা একটু ঠিক করে নিলাম..
একটু পরে আবার ফোনটা বেজে উঠলো.. দেখলাম আবারো ইশাই ফোন করেছে..
কথা বলার ইচ্ছা নেই আমার.. তাই ফোনটা রিসিভ না করে এমনিতেই সাইলেন্ট করে দিলাম..
কিন্তু ইশা বার বার ফোন করছে দেখে রিসিভ করলাম,
-কী হয়েছে হ্যা! কল করছো কেন আমায়! শান্তিতে থাকতে দিবা না নাকি!
-হৃদয় শোনো প্লিজ.. জানি বিরক্ত করছি তোমায়.. কিন্তু বাধ্য হয়েই করতে হচ্ছে.. প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড!
-বাধ্য হয়ে মানে!
-একটা দরকার ছিলো.. সেজন্যই প্লিজ.. একটা বিকেল সময় দিতে পারবা প্লিজ? জাস্ট একটা বিকেল.. শুধু আজকেই.. কিছু কথা ছিলো..
-আমার সাথে আবার কী কথা? এতোদিন পরেও আমাদের মধ্যে কিছু আছে বলে মনে হয় না আমার! আর তোমার তো কয়েকমাস পর প্রীতমের সাথে বিয়ে.. তাহলে ওটা নিয়েই ব্যস্ত থাকো না! আমাকে কেন বিরক্ত করো…
ইশা পরের জবাবটা দিতে একটু বিলম্ব করছিলো.. একটু দম নিয়ে তারপর ও একশ্বাসে বলে উঠলো,
-হৃদয়, আমি প্রেগন্যান্ট…
-এএ?
ইশার থেকে এমন ধরনের কোনো কথা আমি একদম ই এক্সপেক্ট করিনি.. তাই আকস্মিক ওর মুখে এই কথাটা শুনে একদম অবাক হয়ে গেলাম..
ইশা আবারো অনুরোধের কন্ঠে দেখা করার জন্য বলতে লাগলো,
-বিকেলে দেখা করবা প্লিজ!…
আমি ইশার কথায় কিছুক্ষণ চুপ করে গেলাম.. একটু পর কোনো এক জড়তায় হ্যাসূচক উত্তর দিয়ে ইশার সাথে দেখা করতে রাজী হলাম..
আর কোনো কথা না বলে ইশা দেখা করার সময় আর স্থানটা জানিয়ে দিয়ে ফোনটা রেখে দিলো..
ফোনটা রাখতেই পলক আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
-ইশা কী বললো হৃদয়?
আমি কিছুক্ষণ পলকের দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম.. তারপর একটু অশান্ত কন্ঠে পলককে বললাম,
-ইশা প্রেগন্যান্ট..
কথাটা শুনেই পলক যেন স্তব্ধ হয়ে গেলো.. ওর চোখে অস্থিরতার ছাপ ফুটে উঠলো..
ও আমার কাছে এসে আমার কলার দুটো ওর হাতের মুঠোয় চেপে ধরে আমার চোখে চোখ রাখলো.. তারপর এক অজানা আশংকায় আমাকে জিজ্ঞেস করলো,
-হৃদু, তোমার বেবি?
.
.
(চলবে)

Tagged : / /

শশুরবাড়ি পর্ব – ০২ || হৃদয় চৌধুরী


Hridoy Chawdhury

শাড়ি পরা মেয়েটার আচল উড়ানো চলে যাওয়া দেখে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম আমি… বুকে একটা অদৃশ্য ধাক্কা লাগলো.. স্তব্ধ হয়ে ওখানেই হা হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকলাম…
হঠাৎই বরযাত্রীদের এক ঠেলাঠেলিতে হুশ ফিরলো আমার.. আরে ধ্যৎ! মেয়েটার মুখই তো আমার অগোচরে রয়ে গেলো..
যাই হোক, বিয়েবাড়ি ই তো.. ও যে কনেপক্ষের কেউ হবে, এটা সিউর একদম.. উপরওয়ালা চাইলে পুনরায় ঠিক দেখাও হয়ে যাবে..
সানগ্লাসটা ব্লেজারের বুকে ঘষিয়ে চোখে দিতে দিতে ভেতরে ঢুকলাম.. ভিড়ের মধ্যে ভাই বন্ধুদের হারিয়ে ফেলেছি, ওদেরই খুজছি এখন..
এদিকসেদিক দেখতে এককোণায় দাদাভাইকে বসা অবস্থায় দেখতে পেলাম.. ওদিকে বরপক্ষের জন্য বেশ সুন্দর করে একটা প্যান্ডেল বানানো হয়েছে..
একটা চৌকি পেতে বেড সিস্টেম করে কয়েকটা মিনি কোলবালিশ রাখা হয়েছে.. আর তিনদিকে ফুলের ডেকোরেশন.. বর গিয়ে বিয়ের আগ পর্যন্ত সেখানেই বসে ওয়েট করবে..
দাদাভাই আর ওর বন্ধুবান্ধব দেখলাম ওখানেই বসে হালকা আড্ডা দিতে দিতে সময় কাটাচ্ছে.. ক্যামেরাম্যান আর কনেপক্ষের কয়েকজনও আছে.. ওর কোলে অন্তু বসে আছে.. অন্তু খেলার ছলে দাদাভাইয়ের টোপরটা ওর মাথায় দিয়ে হাসছে..
টোপরটা ওর ছোট মাথায় খুব ঢোলা হয়েছে.. অন্তু চোখ নাক ঢেকে গেছে.. এমতাবস্থায় বেশ কিউট লাগছে অন্তুকে..
আমি হাসতে হাসতে ওদের দিকে এগিয়ে গেলাম.. অন্তুর মাথা থেকে টোপরটা নিয়ে আমার মাথায় দিয়ে ওর উদ্দেশ্যে বললাম,
-কাক্কু কেমন লাগে আমাকে??
অন্তু হাসতে হাসতে আধোআধো ভাষায় বললো,
-তুন্দল…
আমি হাসি দিয়ে দাদাভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললাম,
-আহা দাদাভাই কত্তো মজা! তোর পরেই আমার বিয়ে… ভাবলেই মনে লাড্ডু ফুটে উঠে..
-আহারে কতো বিয়ের ইচ্ছা.. এক কাজ কর্ না.. আমার জায়গায় তুই ই বিয়ে করে নে..
আমি টোপরটা খুলে দাদাভাইয়ের মাথা পড়াতে পড়াতে বললাম,
-জ্বি না স্যার.. আপনার কাজ আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দিবেন না.. এসব বিয়ে টিয়েতে আবার খুব এলার্জী আমার!
দাদাভাই আমার দুষ্টামি বুঝলো.. এবার ওও আমার সাথে তাল মেলাতে লাগলো,
-আরে বুঝি তো! তুই ই করে নে না বিয়েটা.. আমি না হয় পরের বার করে নেবো…
-অলে বাবালে! কতো ত্যাগ দেখাচ্ছো গো এখন… অথচ তোমার যে মনে মনে বিয়ের জন্য আর তর সইছে, সেটা আমরা বুঝিনা বুঝি!
দাদাভাই চোখ বাকিয়ে তাকালো আমার দিকে.. ওকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আমি ই টিটকারি মারতে শুরু করলাম,
-লুকিয়ে লুকিয়ে ফোনে কথা বলা.. চ্যাট করা.. উনাকে পিকে দেখা.. হেই সেই.. বাব্বাহ!
দাদাভাই অপ্রস্তুত হয়ে আমার মাথায় দুইটা টোকা দিলো.. দাদাভাইয়ের ফ্রেন্ডরাও এবার মজা শুরু করে দিলো.. আচমকা খেয়াল হলো তিয়াস, উদয়, তিতাস, সূর্য, রুদ্র, বাবা, কাকা, মামা, মামি বাকিদের কোথাও দেখা যাচ্ছে না..
দাদাভাইদের জিজ্ঞেস করায় ওরাও সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারলো না.. তবে বিয়েবাড়িতেই আছে.. বড়রা কাজে, আর ছোটরা ঘোরাফেরা করছে হয়তো.. ওদের খুজতে আমি ওখান থেকে উঠে পড়লাম..
আমি চারিদিক ঘুরেঘুরে খুজতে লাগলাম.. ওদের বাসার উঠানে দেখলাম বিয়ের কুঞ্জ সাজানো হয়েছে.. খুব ভালো লাইটিং আর ডেকোরেশন.. ওখানে গিয়ে বন্ধুবান্ধব আর কাকাইসহ কয়েকজনের সন্ধান পাওয়া গেলো..
কিন্তু উদয় তিতুরা গেলো কোথায়.. উদয়ের কাছে আমার মোবাইলটা ছিলো.. ওটাই দরকার আসলে.. ওদের খোজার ধান্ধায় হাটতে হাটতে আকস্মিক কারোর হালকা চিৎকারে চমকে তাকালাম..
খেয়াল করতেই দেখলাম হাটার মধ্যে এক মেয়ের শাড়ির আচলে পা দিয়ে ফেলেছি.. ও উলটো ফিরতেই ওর হাতে শরবতের গ্লাসটা উপড়ে আমার গায়ের ব্লেজারে পড়ে গেলো.. আমি কিছুটা নাক ছিটকে সরে গেলাম..
সরে মেয়েটার দিকে তাকাতেই শকড হয়ে গেলাম.. আরে এ তো সেই নীল শাড়ি পরা মেয়েটা! এতো অপরূপা! ফেইসে এক্সট্রা কোনোরকম সাজগোজ নেই.. তবুও কতো আকর্ষণীয় লাগছে! চোখ আটকে গেলো আমার..
ও বিরক্ত হয়ে মেলামাইনের গ্লাসটা তুলতে তুলতে আমার দিকে রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকালো,
-হ্যালো মিস্টার!!
হুশ ফিরতেই খেয়াল হলো আমার ব্লেজারটা তো শরবতে ভিজে গেছে, মেজাজটা বেশ খারাপ হয়ে গেলো..
এতোক্ষণ ওর দিকে মুগ্ধতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেও এবার কিছুটা রেগে উঠে বললাম,
-Oh Shit! এই বিয়েবাড়িতে এভাবে ভিজিয়ে দিলেন! তাও আমার ফেভারিট ব্লেজারটা!
-এহ! আপনার জন্যই তো পড়লো! দেখে চলতে পারেন না! আমার শাড়ির আচলে পা দিলেন কেন!
-আজব! আচল সামলে রাখতে পারো না!? না পারলে শাড়ি পড়ো কেন হ্যা…!
-Strange! আমার ইচ্ছা.. আমি পড়বোই শাড়ি.. তাতে আপনার কি!
-এভাবে কেয়ারলেসলি শাড়ি পড়লে যেকেউ আচলে পা রাখতেই পারে! নিজের হুশ নেই, আর অন্যের উপর চিল্লাচিল্লি করো…
-বরপক্ষের আপনি?
-হুম.. কেন?
-দেখেই বোঝা যাচ্ছে… ছাগলু টাইপ… (বিড়বিড় করে)
-Stupid কিন্তু তোমার জন্য আমার ব্লেজার ভিজে গেলো! এটা পড়ে কীভাবে থাকবো… এক্সট্রা কাপড়ও তো আনিনি…
মেয়েটা আড়চোখে এক প্রতিক্রিয়া হীন দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে,
-পাঞ্জাবী তো পড়ে আছেন.. তার উপর ব্লেজার লাগিয়ে এতো স্টাইল করতে হবে না.. খুলে নিন ওটা.. পাঞ্জাবিতে ছেলেদের এমনিতেই ভালো লাগে… এক্সট্রা কিছু না লাগালেও হয়…
কথাটা বলেই ও মাথা নাড়িয়ে গ্লাস হাতে নিয়ে ওখান থেকে তাড়াহুড়ায় চলে এলো.. আমি রাগে ওকে পেছন পেছন ডাকলাম, বাট ও শুনলো না..
অগত্যা কি আর করা! ব্লেজারটা খুলে হাতে নিলাম.. এটা দেওয়ার জন্য তিতুকে আরো ভালোভাবে খুজছি.. ওদের খুজতে খুজতে হবু বউদি দিবার বাসায় ঢুকলাম..
ওখানে যেতেই উদয় আর তিতুদের খোজ পেয়ে গেলাম.. পাগলগুলা আড্ডা দিচ্ছিলো ওখানে.. আমাকে দেখেই দিবা বউদির মা বললেন,
-আরে হৃদয়.. তোমাকেই খুজছিলাম.. এসো বসো… খাও কিছু…
-না না আন্টি খেয়েছি আমি.. খিদে নেই.. জাস্ট একটু জল যদি দিতেন..
-আচ্ছা দাঁড়াও… হিয়া.. এই হিয়া… এক গ্লাস জল নিয়ে আয় তো..
আন্টি কিছু একটা কাজ করছিলেন.. উনি আমাকে বসার কথা বলে কেউ একজনকে জল আনার কথা বললেন.. একটু পরেই ঐ নীল শাড়ি পড়া মেয়েটা এক গ্লাস জল এনে আন্টির সামনে ধরলো,
-এই নাও মা..
-ওকে দে.. (আন্টি)
আন্টি ওকে আমাকে ইশারা করে জলের গ্লাসটা দিতে বললো.. ও প্রথমে আমাকে খেয়াল করে নি.. পরে আমার দিকে তাকিয়ে এক বাকা নজর দিলো.. মুখ বেকিয়ে জলের গ্লাসটা আমার দিকে দিলো..
ওহ্! তো মেয়েটা হিয়া… বউদির নিজের ছোট বোন.. বাব্বাহ! জানতাম না তো এটা.. ভাবতে ভাবতে আমি গ্লাসটা নিয়ে জল খেতে লাগলাম.. আন্টি হিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললো,
-তন্ময়ের ছোট ভাই ও.. হৃদয়…
-হোক গা হৃদয় বা কিডনি! তাতে আমার কি… (বিড়বিড় করে)
-কী? (আন্টি)
-নাহ্ কিছু না মা.. ফ্রেন্ডরা ওয়েট করছে.. আমি ওদিকে যাই..
হিয়া আমার হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে পাশের টেবিলে রেখে যেতে যেতে আমার পাশে হালকা থেমে আড়চোখে তাকালো..
তারপর ওর কাধ দিয়ে আমার কাধে একটা হালকা ধাক্কা দিয়ে মুখ ভেংচিয়ে চলে গেলো.. আমি বেশ ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম এতে..
.
.
(চলবে)

Tagged : / /