অনুভুতির প্রতিশোধ পর্ব – ০২ || জিসান আহম্মেদ রাজ


Person
Jisan Ahmed Raj

আমার হবু স্ত্রী আরিফা আর আমার বন্ধু উজ্জল দুজনের রতক্রিয়ায় ব্যাস্ত। তাদের কারো গায়েই কোন কাপড় নেই!দুজন -দুজনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। মনে হচ্ছে স্বামী -স্ত্রী একে অপরকে আদর করছে। নিজের সবচেয়ে ভালো বন্ধু যাকে নিজের ভাই মনে করতাম সেই আজ আমার কলিজার টুকরাকে কেঁড়ে নিল। আমার ভালবাসার মানুষের সাথে অশালীন কাজ করল!
আজ আমার ভালবাসার মানুষের গর্ভে আমারি বন্ধুর অবৈধ সন্তান। পৃথিবীতে কি সত্যিকারের ভালোবাসা, এভাবেই মিথ্যা ভালবাসার কাছে হেরে যাবে? কোন দাম নেই কাউকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসা।

দীর্ঘ ১১ বছর প্রেম করার পর, বাগদান সম্পাদন করার পরও যখন ভালবাসার মানুষটি অন্য কারো সাথে পরকীয়া করে, তখন বাঁচতে ইচ্ছে করে না। ডাক্তার আকাশের মতো আজ আমি জীবন্ত লাশ। আমার বুকটা ফেঁটে কান্না আসছে। নিজের ভালবাসার মানুষ বাগদত্তা যখন অন্যের বুকে, আমার শুদ্ধতম ভালবাসার এ কি ছিল প্রতিদান?

চোখ থেকে ধরধর করে পানি পড়তে লাগল। বুকের বাম পাশটা মনে হচ্ছে আজ খালি হয়ে গেছে। যাকে নিজের থেকে বেশি ভালবাসতাম তাঁর সম্পর্কে আজ এসব জানবো। যা মৃত্যুর চেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
হঠাৎ ঘরের ভেতর থেকে আওয়াজ আসল” জানো সুইট হার্ট আজ তোমাকে সারারাত আদর করবো”!
— ইসসস আমার বাবুটা সত্যি বলছে?
— হুমম,, তবে আঙেল আন্টি তো আসবে না?
–না বাবু আজ তোমার আর আমার মাঝে কেউ বিরক্ত করতে আসবে না
জানো সুইট হার্ট তোমাকে খুব খুব মিস করেছি তোমায় এ কয়েকটা দিন! আর একটু কাছে আসো। তোমার লিপস্টিক খাবো?( উজ্জল)
– হুমম আমার বাবু খাবে না করতে পারি?
এই জন্যই তো, তুমি আমার সুইর্ট হার্ট!
হুম, আমার জানেমন। শোন বেশি লিপিস্টিক খেয়ো না, পরে পেট খারাপ করবে আবার ( আরিফা)
তাই তো, দুষ্ট কথাকার পেট খারাপ করলে করবে, সে জন্য আমার সুইর্টহাটকে আদর করবো না! ( উজ্জল)
তাই বুঝি, দেখি আমার জানেমন কি করে আমায়( আরিফা)
আরিফা কথাটা বলার আগেই, উজ্জল টান দিয়ে আরিফাকে কাছে টেনে নিলো। আরিফার ঠোঁট জোড়া উজ্জলের দখলে নিয়ে নিলো।
জানালার পর্দাটা যেমন ছিল তেমনি রেখে দিলাম। মনে পড়ছে শৈশবের সে সব দিনের কথা” জানো রাজ, তুমি বর সাজবে আমি তোমার বউ সাজবো, । তুমি আলতা নিয়ে এসে আমার পায়ে পড়িয়ে দিবে। ছোট্ট একটা সংসার হবে। যেখানে সব কিছুর অভাব থাকলেও থাকবে না কোন ভালবাসার অভাব। বল বিয়ে করবে তো আমায়? তোমার রাঙা বউ বানাবে তো আমায়? জানো আমার খুব ইচ্ছা কিয়ের পর দুইটা বেবী নিবো। একটা ছেলে আরেকটা মেয়, ছেলের নাম হবে ‘ আমার নামানুসারে, আরিফ। আর মেয়ের নাম তোমার নামের সাথে মিলিয়ে রিসা! সুন্দর না?
আমি আরিফার মুখের দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে, মাথা নাড়িয়ে হ্যা সূচক জবাব দিতাম।
আরেকটা কথা কি জানো? তুমি কিন্তু প্রতিদিন আমাকে বুকে নিয়ে ঘুমাবে! প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠার পর, আমাকে পাপ্পি দিতে হবে।
আমাকে অনেক ভালবাসতে হবে! কখনো ছেড়ে যাবে না আমায়! তোমায় ভালবেসেই মরতে পারি। তোমার বুকটাই আমার শেষ ঠিকানা। তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না। প্লিজ কসম করো আমার মাথায় হাত রেখে, আমাকে কখনো ভুলে যাবে না! সেদিন আরিফার মাথায় হাত রেখে প্রমিজ করেছিলাম। কিন্তু চারবছরের ব্যবধানে আজ আরিফা অন্যের বিছানার মনোরন্জন করছে। কি অপরাধ ছিল আমার।
মনে মনে ভাবলাম, কী অপরাধ ছিল আমার কেন এমন করল তা জানতে চাই। এই ভেবে কয়েকবার দরজায় নর্ক করতেই ভেতর থেকে আওয়াজ আসলো ” এ সময়ে কে বিরক্ত করে, ডিসগাস্টিন!
কয়েক পর, আরিফা কোনরকম কাপড়টা গাঁয়ে জড়িয়ে দরজা খুলেই আমাকে দেখে বলল ” আরে রাজ তুমি এ অসময়ে। আমার শরীরটা ভালো না, তোমাকে তো বললাম তবু বাসায় কেন আসছো!
তা শরীর ভালো না, ঠিক আছে তবু তোমার বাসার সামনে উজ্জলের বাইক কেন? লজ্জা করে না একজনের বাগদত্তা হয়ে অন্যজনের সাথে অবাধে- মেলামিশা করতে? আমার ভালবাসায় কিসের কমতি ছিল! বলো? হঠাৎ দেখলাম, উজ্জল বেরিয়ে আসল। মাথাটা নুচু করে আছে।
রাজ কি বলছো এসব, তুমি না আমায় ভালোবাস? ভালবাসার মানুষ সম্পর্কে এ ধারণা! উজ্জল ভাই কলেজের একটা সমস্যার জন্য কথা বলতে আসছিল। ওই যে আসফার বিষয়টা নিয়ে! ( আরিফা)
ছিঃ লজ্জা করে না, তোর চেয়ে পতিতারা ভালো, অন্তত মিথ্যা কথা বলে না! তোরা যা করেছিস, জানালা দিয়ে সব দেখেছি, নষ্ট মাইয়া! তোর মতো মেয়েকে বিয়ে করার চেয়ে বেশ্যাদের সাথে রাত কাটানো ভালো অন্তত, বিশ্বাসঘাতকতা করবে না তাঁরা! ( আমি)
ঠাস- ঠাস করে চড় বসিয়ে দিল আরিফা আমার গালে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি। আরিফা বলতে লাগল” সব যখন দেখেছিস তাহলে কেন আবার জিজ্ঞেস করছিস। তোর সাথে ১৪ বছরের সম্পর্কে একবার কিস করা তো দূরের কথা আমার হাতটা ধরেছিস? না বলতে পারবি না, তোর মতো ক্ষ্যাত মার্কা ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক করাটাই ভুল হইছে। উজ্জল ১ বছরে বুঝিয়েছে, ভালোবাসা কাকে বলে! কতটা গুরুত্বপূর্ণ আমি উজ্জলের কাছে! (আরিফা)
হা হা, অবৈধ সন্তান গর্ভে জন্ম দেওয়া ভালবাসা?
চলবে….

Tagged : / /