অনুভুতির প্রতিশোধ পর্ব – ০৩ (শেষ) || জিসান আহম্মেদ রাজ


Person
Jisan Ahmed Raj

বাগদত্তা হয়ে অন্যের শরীর গরম করাকে কী ভালবাসা বলে? নিজের ভালবাসার মানুষকে ঠকিয়ে আরেকজনের সাথে রাত কাটানোকে কি বলে ভালবাসা? নাকি, বাবা- মা বাড়ি থেকে চলে গেলে, অন্য পুরুষকে ডেকে এনে শরীরেে চাহিদা মেটানোকে বলে ভালবাস? জানি উওর নেই তোর মতো বেশ্যা মেয়ের কাছে! আরে বেশ্যা বললেও বেশ্যা দেয় অপমান করা হবে। কারণ তাঁরা নিজেকে রাতের আধারে বিলিয়ে দেয়, টাকার জন্য, তোর মতো হবু স্বামীকে রেখে শরীরের চাহিদা মেটানোর জন্য না।
এই নে তোর দেওয়া এনগেজমেন্ট এর আন্টি! কথাটা বলে হাত থেকে আন্টিটা খুলে মুখ বরাবর ঢিল দিলাম। কষে দুইট থাপ্পর দিলাম। উজ্জল আমার দিকে এগিয়ে আসতে চাইলে, বললাম, তুই যদি এক পা সামনে আসিস আজ দুইটা লাশ পড়বে। কথাটা বলে পাশে রাখা ফলের ঝুঁড়ি থেকে চাকুটা টান দিয়ে হাতে তুলে নিলাম।
আজ আমি তোকে বলে যাচ্ছি, তুই যে আমার পবিএ ভালবাসার সাথে প্রতারণা করলি, একদিন আমার পবিএ ভালবাসার অনুভূতিগুলোই প্রতিশোধ নিবে। তখন তোর দু’চোখে জল ছাড়া কিছু আসবে না।অনুতপ্ত হয়ে কতো কাঁদবি। কাঁদবি আমার মুখে একবার ভালবাসি কথাটা শুনার জন্য। আমার পা ধরে ক্ষমা চাইবি। প্রত্যাবর্তন বলে একটা কথা আছে। আমার ভালবাসা যদি পবিএ হয়ে থাকে, নামাযের মাঝে মোনাজাত গুলো যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে, একদিন না একদিন তোকে কাঁদতেই হবে। আমার অনুভূতিগুলো তোকে ঘুমাতে দিবে না।
হইছে, তোর আর ডায়ালগ দিতে হবে না, আমরা কালকের বিয়ে করবো। ভাবছিলাম তুই বিয়ে করে নিলেও আমার ময়নাপাখি আমারি থাকবে কিন্তু না, আমার সুইট হার্টকে আমি আপন করে নিবো। চলো সুইর্টহাট কথাটা বলে উজ্জল আরিফার আপত্তিকর জায়গায় হাত রেখে, আরিফাকে নিয়ে রুমে ঢুকে গেল। আমার চোখ দিয়ে টপ-টপ করে পারি পড়ছে। এই নরক থেকে বের হয়ে, বাইক এ চড়তেই শরীরটা কেমন করে উঠলো! আরিফার দেওয়া থাপ্পর, আরিফার কমকার্ন্ডগুলো বার বার চোখের সামনে ভাসতে লাগল।
আমি বাইকের স্পির্ড আরো বাড়াতে লাগলাম একসময় বাইক দিয়ে, ট্রাকের সাথে ধাক্কা লাগল। তাঁরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরে দেখি, আমি হসপিটালে।
গত তিনদিন আমার সেন্সছিল না।
হসপিটালের একটা ডাক্তারকে দেখে বললাম ” আমাকে এখানে কে নিয়ে এসেছে? “
একটা নার্স এসে দেখিয়ে দিল, একটা মেয়েকে! ভাইয়া ওইযে বাহিরে যে মেয়েটা বসে আছে সে মেয়েটা আপনাকে, হসপিটালে নিয়ে এসেছে। কথাগুলো বলতে শেষ করতে না করতেই মেয়েটা এসে হাজির।
মেয়েটাকে দেখে, অনেক মার্জিত মনে হচ্ছে। পর্দাশীল মনে হচ্ছে। মেয়েটার মুখ দেখা যাচ্ছে না। সারা শরীর পর্দায় ঢাকা।
আমার কাছে এসেই বলল ” কেমন আছেন? ( মেয়েটা)
আমাকে কেন বাঁচিয়েছেন? আমার মতো মানুষকে কেন মিছামিছি বাঁচিয়ে কষ্টের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আমি তো মরদে চেয়েছিলাম! ( আমি)
সবাই বাঁচতে চাই, আর আপনি মরতে চান কেন?
কার জন্য বাঁচবো যাকে এতটা ভালবাসলাম সে এমন করলো। মেয়েটাকে সব বললাম। কথা শেষ করতে রা করতেই দেখি, মেয়েটা কাঁদছে। আমি বললাম” আপনি কাঁদছেন কেন? “
একটা মানুষকে আরেকটা মানুষ এতটা কষ্ট দিতে পারে। একটা মানুষ আরেকটা মানুষকে এতটা নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসতে পারে, আপনাকে না দেখলে বুঝতাম না। শুনেন ইসলাম এই জন্যই প্রেম ভালবাসা হারাম করেছে। যদি নিঃস্বার্থ ভাবে ভালোবাসতে হয় তাহলে স্ত্রীকে ভালবাসতে হয়। আর এই ভালবাসায় মহান আল্লাহ্ তায়ালা বরকত রেখেছে।
আপনাককে একটা কথা বলতে চাই। আমার নাম কারিমা জাহান কথা! আর আপনি হয়তো রাজ তাইনা?
মেয়েটার কথায় অবাক হয়ে গেলাম। আচ্ছা আপনি আমার নাম কেমনে জানলেন?
স্বপ্নে দেখেছি, আপনাকে,। সত্যি বলতে আমি স্বপ্নে দেখি যে আপনি বর সেজে বসে আছেন। আর আপনার নাম রাজ। আর আমি বউ সেজে একটু দূরে বসে আছি। আর সবাই বলছে বরের নাম রাজ। আমি এমনি, কখনো সত্য গোপন রাখতে পারি না। আপরি বিশ্বাস না করলেও সত্য যে স্বপ্নে আপনাকে দেখেছি।
হঠাৎ মনে পড়ল, রাস্তায় এক পিচ্চির কাছ থেকে আমি আর কথা নামের মেয়েটা একসাথেই ফুল কিনি। তখন রবি, রাজ ভাইয়া বলে ডাক দেয়। আর সেটাই স্বপ্নে আমার নাম শুনতে সাহায্য করে কথাকে।
কথাকে ফুল কেনার কথা বলতেই, বললো এই জন্যই বলি কোথায় যেন দেখেছি আপনাকে। আচ্ছা আমি আসি। আপনি একা যেতে পারবেন?
এর পর থেকে প্রায়ই কথা হতো কথার সাথে। বাসায় এসে শুনি, আরিফা নাকি বিয়ে হয়ে গেছে উজ্জলের সাথে। এদিকে প্রায় ছয়মাস পরে আমার মা, আরিফার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা জেনে যায়। এবং তাঁর সাথে কথা যে আমাকে বাঁচায় সে বিষয়টাও জেনে যায়। মা আমার আর কথার বিয়ের কথা বলতে কথার মার কাছে যায়। কথার মা আর না করেনি।
প্রায় মাসখানেক পর, আমার আর কথার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়েতেও কথা বোরকা পড়ে ছিল। আজ আমাদের বাসর রাত।
বাসর ঘরে কথা একা বসে আছে, একটি পরেই বন্ধুরা বাসর ঘরে ধাক্বা দিয়ে পাঠিয়ে দিল।
আমি ঘরে যেতেই কথা আমার পায়ে সালাম করে নিল। এদিকে ঘুমটা সরাতেই আমি স্তব্দ হয়ে গেলাম। আল্লাহর সৃষ্টি এতো সুন্দর হতে পারে কথাকে না দেখলে অজানায় থেকে যেত।
মনে হচ্ছে পূর্ণিমার চাঁদটা আজ আমার ঘরে উদয় হয়েছে। বিয়ের আগে কথাকে দেখতে বলা হয়েছিল। আমি ইচ্ছা করেই দেখিনি। কারণ কথার ব্যক্তিত্যটা আমার খুব ভালো লেগেছিল। আল্লাহ যে আমার জন্য এতো বড় নিয়ামত রেখেছিল এ জন্য শুকরিয়া।
আসেন আমরা দুজনে মিলে, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া স্বরুপ দু’রাকাত নফল নামায পড়ি।
অযু করে এসে কথার সাথে দু’রাকাত নামায পড়ে নিলাম।
দিনগুলো ভালোই কাটতেছিল। দুনিয়াটা মনে হচ্ছে বেহেশতের একটা টুকরা। আগে শার্ট – প্যান্ট পরতাম। এখন, গায়ে পান্জাবী ওঠেছে।
তিনমাস পর, কথাকে দেখলাম, আয়নার সাজতেছে। আমার দেখে মুচকি মুচকি হাসতেছে।
কি হলো, তুমি হাসতেছে কেন?
আমাদের ঘরে নতুন মেহমান আসছে। ( কথা)
আলহামদুলিল্লাহ্! আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় স্বরুপ দু’রাকাত নফল নামায পড়ে আসছি। নামায শেষ করে, কথাকে বললাম তুমি আমার কাছে কি চাও?
আমি কিছুই চাইনা, তবে আল্লাহর কাছে চাই যে, জান্নাতেও যেন আপনাকে পায়।
পরের দিন খবরের কাগজ খুলেই একটু বিস্মিত হলাম! ” বিখ্যাত ব্যবসায়ী উজ্জল, সাতবছরের শিশুকে ধর্ষনের দায়ে গ্রেফতার। ছবির নিচে, আমারি বন্ধু উজ্জলের ছবিটা দেখে অনেকটা অবাক হলাম। শুনতেছি, নারী পাচার কারী, কালোবাজারি প্রায় সবরকম কাজই করতো। ফাঁসি হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি।
এদিকে কথা চা বানিয়ে নিয়ে এসে, কথার মাথাটা আমার উরুর ওপর দিয়ে বললো” আপনার তো কোন কষ্ট হচ্ছে না? কি করবো আমার শরীরটাও বেশি ভালো যাচ্ছে না। “
কথার মুখে এমন কথা শুনে স্মিথ হেসে, কথার মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম” কি বলছো, তুমি তো আমার রবের পক্ষ থেকে নিয়ামত। রবের নিয়ামত কখনো কষ্ট দায়ক হয় না। “কথাটা বলে কপালের মাঝখানে একটা চুমু এঁকে দিলাম!
দেখতে দেখতে অনেক দিন চলে গেল,
কথাকে নিয়ে হসপিটালে গেলাম।
প্রসব ব্যাথা ওঠেছে। খুব চিন্তা হচ্ছে। নামায পড়ে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করলাম।
দীর্ঘ তিন ঘন্টা পর ডাক্তারনী অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে বললেন ” আপনার ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছে, বাচ্চা আর বাচ্চার মা দুজনেই ভালো আছে!
আমার কাছে আজ কত যে খুশি লাগছে বলে বুঝাতে পারবো না!
এদিকে, কথার বেডে ঢুকতে সময় শুনতে পেলাম হাসপাতালে এক ব্লাড ক্যান্সারের রোগীর জন্য Ab – রক্ত লাগবে। রক্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, আমি ডাক্তার কে বললাম আমি রক্ত দিবো, আমার কাছ থেকে রক্ত নিন।
আমি রক্ত দিয়ে বের হতে না হতেই নার্স বললো, রোগী মারা গেছে।ক্যান্সারের লাস্টটেজে ছিল একদম। রোগী মারা যাওয়ার আগে এই চিঠিটা আপনাকে দিয়ে যায়!
“প্রিয় রাজ,
প্রথমে আমার সালাম নিবে!
আশা করি ভালোই আছো।
আমি জানি আমি আর বাঁচবো না, আল্লাহর কাছে অনেক প্রার্থনা করেছি, মরার আগে তোমার মুখটা যেন দেখতে পারি। আল্লাহ্ মহাপাপীর দোয়া কবুল করেছেন হয়তো।
জানো, তোমাকে ঠকানোর প্রতিদান এভাবে পাবো ভাবতে পারিনি। তোমার সত্যিকারের ভালবাসা আমি না বুঝে, আবেগের বসে উজ্জলকে বিয়ে করে বুঝতে পেয়েছি কতবড়ড় ভুল করেছি! উজ্জল আমাকে নয় আমার দোহটাকে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পরেই বুঝতে পারি। উজ্জল একজন চরিএহীন ছিল। জানো উজ্জল আমাকে বিয়ের ছয়মাস পরে ডির্ভোস দেয়। আরেকটা বিয়ে করে নেয়, তোমাকে তখন কত খুজেছি, তোমার পায়ে ধরে ক্ষমা চাইবো বলে, তোমার মুখে একবার ভালবাসি কতটি শোনার জন্য কত কেঁদেছি।কোথাও পায়নি। প্রতিরাতে তোমার ছবি বুকে নিয়ে কাঁদতাম। একদিন সেন্স লেন্স হয়ে পড়ে গেলে, মা হসপিটালে নিয়ে আসে আমায়। পড়ে জানতে পারি আমার ক্যান্নার বেশিদিন বাঁচবো না। বিশ্বাস করো আমার একটু কষ্টও হয়নি, কারণ তোমার সত্যিকারের ভালবাসাকে অবহেলা করার শাস্তি পেয়েছি। আজ যখন তোমাকে আমার জন্য ব্ল্যাড ডোনেট করতে আসতে দেখি, তখন নার্সকে বলে এই কয়েকটা কথা লিখি। ক্ষমা করে দিয়ো আমায়, ভালো থেক।
চিঠিটা পড়ে, চোখটা মুছে, কথার রুমে গেলাম। কথার পাশেই দেখি, আমাদের রাজকন্যাটা কাঁদছে আমি টান দিয়ে আমাদের রাজকন্যাকে বুকে টেনে নেয়!
তুমি কাঁদছো কেন?
কাঁদছি না তো আজ তৃপ্তির কান্না কাঁদছি, সত্যিই আল্লাহ্ যা কেড়ে নেই তার চেয়ে বেশি ফিরিয়ে, তবে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখতো হবে।
সমাপ্ত

Tagged : / /