অপেক্ষা || ফরিদ সরকার


অপেক্ষা
ফরিদ সরকার
তুমি আসবে বলে;
অপেক্ষায় এ ধূসর ভূবন,
তুমি আসবে বলে।।
তুমি আসবে বলে;
চলছে এই পরিবর্তনের স্রোতধারা,
শুধু তুমি আসবে বলে।।
নিরবতা,স্তব্ধতা,হৃদয়ের সকল ব্যাকুলতা ধমকে;
তুমি কি সত্যিই আসবে?
তুমি আসবে বলে;
প্রকৃতি চির শুভাসিত,
আর শত সহস্র রঙ্গিন ফুলে সেজেছে মোর হৃদয় কানন-
শুধু তুমি আসবে বলে।।
তুমি আসবে বলে;
উচ্ছাসিত মোর সকল কৃর্তি।
তুমি কি ভিড়বে না এ ভূবনে?
Tagged : / /

আপেক্ষিক || ফরিদ সরকার

আপেক্ষিক

Person
Farid Sarkar

সফলতা কি?
আপেক্ষিক __
চিন্তা কেন্দ্রিক,
তৃপ্ততা ভিত্তিক।
কেহ খেয়ে বাঁচলে,
কোটি টাকাতে, বিলাসে।
ক্ষমতা প্রয়োগে __
অপব্যবহার?
আপেক্ষিকতার সূত্রে ;
আহ্ তুমি তো পিশাচ,
ভণ্ড, প্রতারক, বেইমান।
গুনিলে; শূন্য হাতিয়ার!
সফলতা কোথায় তাহলে?
আসলে চাওয়াতে;
আত্ম তৃপ্তি উর্ধ্বে।
যত বৈচিত্র্য ইচ্ছে ;
ডাক্তার মুখে মুখে,
পূর্ব ধারার ধাচে।
অফিসার, কেরানি বটে;
আপেক্ষিকতার সূত্র কষে,
শেষটা ব্যক্তি বেদে।

Tagged : / /

অচেনা প্রান্তর || ফরিদ সরকার

অচেনা প্রান্তর

Person
Farid Sarkar

এসেছি অচেনা প্রান্তরে,

এ প্রান্তর বড় অপেক্ষার।

আবার কখোনো লজ্জার!

তবে নয়তো থামাবার!

কখনো দেওয়ালে লিখন প্রশ্ন,

আবার কখনো আচমকা উত্তর!

বস্তুত সময়ের বড়ই অভাব!

বারি বিচিত্র কর্মভার।

আশা, সফলতা অনেকটাই দুর্বার,

মন তো! কিঞ্চিৎ হলেও হয় প্রফুল্ল

স্নেহময়ী ভালোবাসার ছোঁয়ায়!

সু- আজ্ঞা সময় তোমার,

করে নিও তৃপ্ত সফলতায়।

Tagged : / /

অ্যাফ্লিক্টেড বোবা || ফরিদ সরকার

অ্যাফ্লিক্টেড বোবা

Person
Farid Sarkar

কোন এক সন্ধায় গুরুজন কহিলেন,

চলো! একটু ঘুরে আসি স্বপ্ন বাগানে।

নির্দেশ রক্ষার্থে চল্লাম অজানা নীড়ে।

যে প্রবেশদ্বার অসম্ভব, তাহা হয়লো

উন্মুক্ত গুরুকুল সংস্পর্শে হাসিমুখে!

অভিবাদান্তে স্বপ্নমাতা শুনান বিষন্নতা!

বিষন্নতায় অগ্রাধিকার পেল প্রচেষ্টা

‘না’ কথাটি যেন সত্যিই তাঁর অজানা।

ঠিক যেন তিনি একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা।

স্বপ্নমাতার কার্যগতি যেন টার্গেট বুলেট!

অকল্পনীয় তার চিন্তাজগত যেন উন্মাদ,

গুরুকর্তৃক, হলাম স্বপ্নমাতার সহযোদ্ধা।

স্বপ্নমাতার স্বপ্ন কি! নয় বাড়ী বানানো,

বিলাসবহুল গাড়ীর মালিক, ইচ্ছে যত

তাঁর অপত্যের গৌরবময় সাফল্যে!

কিন্তু!অলসতা ছাড় দেয়নি

তাঁর অবিচ্ছেদ্য ধারাকে!

ধীমান মা কর্মে বিশ্বাসী, দেন ধমক!

কখনো ভালোবাসাযুক্ত মৃদু কন্ঠে!

আবার কখনো অভিমানী সুরে!

ঝড় শুরু হয় যখন তাকে না বুঝে।

এ যেনো চিড়িয়াখানার বন্দীশালা,

যেখানে অসম্ভব মুক্তমনা, সৃজনবাদ।

স্নেহ নেহাত মন্দ নয়, নয় ভালোবাসাও

তাইতো খাটে না কোন অজুহাত!

এটা কি ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল না?

না পারি কইতে আর না পারি সইতে

ঠিক এমনই করুণ দশা স্নিগ্ধার!

Tagged : / /

কলমের শক্তি || ফরিদ সরকার



কলমের শক্তি

Person
Farid Sarkar

মসীতে শক্তি? পৃথিবী জয়__

অসৎ খুজে লোকালয়

অবরুদ্ধ, কালোরঙ,

আলোয় অস্পর্শ অন্ধকার লোকালয়।

বন্দুকে জয় ভূখণ্ড, মসীতে বিশ্ব জয়।

আফসোস মসীতেই নৈতিক অবক্ষয়,

কোথায় বাহুবল? ভেঙ্গে ফেল্,

ভেঙ্গে ফেল্ আঙ্গুলদ্বয়।

কিন্তু সাবধান, কলমটি নয়।

পারলে বাঁকা করে দে

সত্যের ময়দানে কলমের ঘূর্ণন।

ভণ্ডামি করেছে অমানুষ

এই ভণ্ড, ছাড়িস নি কলম?

নাকি খাবি থাপ্পড়?

কলঙ্কিত হস্তে বন্দুক তোর!

হতে চাস কেমনে যুদ্ধে সফল?

লজ্জা থাকার বিষয়____

জিতবি যে আছে প্রেম বিনিময়?

আরে গাধা প্রেমে থাকে মিল রং,

কই মিল? হস্ত তোর কলঙ্কিত,

অথচ

হস্তে কলমটি তোর পাপ মুক্ত।

পবিত্র হাতে ধর করতে পারবি বিশ্বজয়।

পবিত্র!

এ আবার কি?

সোজা উত্তর ভালো চরিত্র।

Tagged : / /

অবিদিত সেই তুমি || ফরিদ সরকার

অবিদিত সেই তুমি

Person
Farid Sarkar

বিচিত্র মানুষ, কর্মভার তো বটেই!

আবেগ থাকে না বললেই চলে,

তবুও কমতি কিসে যদি দেখা মেলে!

মনের মতো, দেখা মাত্রই ভালো লাগলে,

প্রকৃতির নিয়ম, তবেই ভালোবাসার ফুল ফুটে।

আর এমন দেখা কি সহজে মিলে?

না, এতো সস্তা নয় বলেই অনুরাগের মূল্য এতো।

সোনা যেমন কামারের নিকট মূল্যহীন,

মনে মন না পড়লে তেমনই প্রেম

অকিঞ্চিৎকর,ভালবাসাহীন।

অবিদিত, ঠিক তুমিই বাধ্য করেছিলে আমাকে,তোমার প্রেম রাজ্যের রাজা হতে।

মনে আছে এক সকালের কথা?

আমি শায়িত, তখন তুমি অভিনব বধু’র মতো!

সিক্ত মাথার নিংড়ে পড়া পানিতে ভেজা ওড়না

পেঁচিয়ে আমার সামনে এসে চক্ষু ভাষায়

বুঝিয়েছিলে আজকের দিনটাই প্রতিদিনের!

আমি যখন মত্ত হলাম ঘুমের প্রেমে,

তখন কি করেছিলে?

সিক্ত চুলের চুয়ে পড়া ফোটা ফোটা প্রেম

দিয়ে সংকেত দিয়েছিলে এভাবেই জাগাবে!

চমক! ঘুম থেকে জাগ্রত হতেই দেখি

আমার শয়ন গৃহের ভাঙ্গা ছাউনি

চুয়ে চুয়ে পড়িতেছিল বৃষ্টির পানি!

Tagged : / /

ভুল || ফরিদ সরকার


ভুল

Person
Farid Sarkar
কি হতে চাও?
পাওয়ার নিমিত্তে_
কি প্রয়োজন?
আর কি করছো?
তার খুজ রাখছো?
হয়েছো তন্ময় নিজের তরে?
তা কি করে…….
দেখলা শুধু কে কি করে –
আস্ত একটা বোকা সেজে
নিজের খাইয়া পরের দিকে
হে কোমল মতি,
শিক্ষাকে নিলা বিপদে পড়ে
চাকরী পাওয়ার লোভে!
জীবনের তরে নয়-
শুধু করছো ছাত্রের অভিনয়,
হা হা তুমি তো প্রকৃত নয়!!
পাক্কা অভিনেতা._____
কালের বিবর্তনে হয়েছো রাজা,
কলমে করছো নীতিকে বাঁকা।
ভুল জড়তায় নিচ্ছ পাপের বোঝা।
পাপ কি? পাপ তাপের তাড়না।
Tagged : / /

আরেক জগৎ || ফরিদ সরকার

আরেক জগৎ

Person
Farid Sarkar

বাস্তব নয় ভার্চ্যুয়াল,
তবুও গ্রামটা সুবিশাল।
কমিয়ে দুরত্ব বাড়িয়েছে বন্ধুত্ব,
ক্লান্তি ব্যতিরকে মুহুর্তেই সব জ্ঞাতব্য।
নগর বন্দর বনাম অঞ্চলের সভ্যতা,
নিশ্চায়িত সদা সর্বদা।
বৈপ্লবিক যুগে এনেছে পরিবর্তন,
আনন্দে মাতোয়ারা কেবল বাঙ্গাল।
হইতেছে শহর অঞ্চল একাকার,
কে যে এই গ্রহের কর্নধার।
কল্পনাতেও ছায়া দেয় ধোকা,
মেয়ে সাজতেও রাজি ছেরা।
ভরে যায় নেটখোরে,
কার টাংকি কে মারে।
অন্তিমতা নেই এই মিথ্যাচারের,
হাহঃ অভাব নেই এঞ্জেলদের।
ঘরে বসেই হচ্ছে সব,
অর্থ উপার্জন বাদ নেই তান্ডব।
হুমকিতে মন্ত্রনালয়ের তথ্য হয় ফাঁস,
প্রশ্ন ফাঁস চাকরি-শিক্ষার লাগেনা ডাকটিকিটার।
জাতি অলস্য হইলেও নয় সর্বনাশ,
সংক্ষেপে কাজ সারার আছে অভ্যাস।
দুনিয়া ধ্বংস পারমানবিক বোমাতে,
ভার্চ্যুয়ালে তছনছ ডার্কওয়েবে।
ছিনতাই থেকে ধ্বংসাত্বক সবি ঘটে,
পদ্ধতিটা তো ভিপিএন এ।

Tagged : / /

ভিন্ন চোখ || ফরিদ সরকার

ভিন্ন চোখ

Person
Farid Sarkar

একচোখে মানব মানুষ,
ঐ চোখেই মানব তুমি বড্ড অমানুষ!
তাহলে মানব মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ?
হ্যাঁ, মানলাম! মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ আছে।
কিন্তু সৃষ্টিকর্তা করলেন যে তোমাকে অনন্য!
ঈশ্বর তোমাকে দিয়াছিল ঈশিতা।
কি করছো? অপব্যবহারের অভ্যাসে
হয়েছো শয়তান, করছো ইচ্ছে যত শয়তানি।
তুমি যে কারো কন্ট্রোলে থাকা ঘুড়ি
একথা ভেবেছো?নাকি ভেবেছো_
পুরোটা আকাশই তোমার?
হাহ্ আকাশটাই তো তোমার না।

তুমি চালাক তাই না বাপু?
হা হা আমি বলছি তুই
বড্ড নির্বোধ রে বোকা।
কেন তুমি হার মানছো অহরহ
কাগজে গড়া টাকার কাছে?
কি বলবো তুমি হার মানো
তোমার বিবেকের কাছে।
ফলে হার মানতে বাধ্য হও
একটা কুকুরেও কাছেও।
কেনো তা শুনলে না?শুনো,তুমি শ্রেষ্ঠ
তোমার কথা শুনবে না কেন সকলে?
আরে বোকা তোমার স্ত্রীও তো শুনবেনা,
তুমি তোমার যৌবনকে বিসর্জন দিয়েছো_
অপথে, লৌহের চেয়ে শক্ত হাতে কৌতূহলে।
কই স্বাস্থ্যবিধি মানলা কই?
এই বোকা তোমাকেই বলছি..

তুমি একটা বোকা কোথাকার ।

Tagged : / /

ওরে খোকা || ফরিদ সরকার

ওরে খোকা

Person
ফরিদ সরকার

খোকা, আজ তুই অনেক বড়!
এ বড়ত্ব কি যে কষ্টে এসছে
তা কি মনে করিস তুই?
কখনো মনে করবি না, একধম না!
তাহলে আমি হয়তো অপরাধী হবো,
কারণ?কারণ, তোর সন্তানরা
সেই কষ্ট করে না, যেটা তোর হয়েছে।
হয়তো এটাই বলতে চাইবি ,
আমিআমার সন্তানকে সব দেই;
আমাকে কেন দিল না?
শুন খোকা, অপরাধী করিস না প্লিজ!
আচ্ছা তুই সেদিন অনেক কষ্ট পেয়েছিলি?
ঐযে, যেদিন ১ টাকার লাল পয়সার জন্য
পাগলামো করছিলি কিন্তু দিতে পারিনি!
পাগলাটে খোকা কেন জেদ করছিলি?
স্কুলে কেন গেলি না সেদিন?
ঐদিনের পড়া থেকে পিছিয়ে যাবি,
অন্তত এটা ভাবতে পারতি!
কিন্তু লাল কয়েনটার কথা ভাবলি!!
কি হলো? খেলি কাঁচা কঞ্চির বারি!
হৃদয় আমার ক্ষত সেদিনের আঘাতে!
খোকা, এটা কি তুই জানিস?
জানি, জানি তো আমরা!
আমরা মা জাত;
জানি তোদের দুঃখের পঙক্তি।
শুন্ খোকা, এই খোকা শুন্
তুই কি আজো দুপুরে খাস না
তখন খেতে পারিস নাই অভাবে,
আজ কি খাস না তুই সুখে?
নাকি এখন টা তোর অভ্যাস?
আচ্ছা সকালের পান্তাভাত এখনো চলে?
খোকা, আজ সকালেও ভাবলাম ;
কত সকাল গেছে পান্তাভাতে,
আবার না খেয়ে, চাল না থাকায়।
তিন টাকার কেক কবে কোথায়?
ভাবতেও ভাবতে হতো!
জানিস? তোর বাবা, তোর বাবা;
কত রাত বালিস ভিজিয়েছে
পরম ভালোবাসাযুক্ত অশ্রুজলে?
সকালে দেখলাম মুড়ি দেওয়া চাদরে
কালো কসের মতো আফসা দাগ!
বুঝে নিলাম চোখের জল।
লাঙল জোয়াল রেখে খেতে বসলো,
আমি অধীর আগ্রহে জিজ্ঞেস করলাম,
অশ্রুসিক্ত নয়নে একবার আমার দিকে!
আবার খাবার প্লেটে,
কষ্টের পাহাড়কে উপেক্ষা করে বললেন
আমার ছেলেটার চাহিদা মেটাতে অপারগ,
আমি…আমি চকলেট পর্যন্ত দিতে পারিনা!
আর নাকি আমি নাকি বাবা!
সোনাল আমার দিকে তাকিয়ে থাকে,
অথচ এটাও বলতে সাহস পাই না
বাবা, আনতে ভুলে গেছি পরে আনবো
মিথ্যা তো বলতে পারি না,
কারণ ও তো ধোকায় পড়ে যাবে।
আমার কাছে পয়সা নাই তা আমার জানা।
মিথ্যা অভিনয় কি সেটা ও শিখবে।
সত্য ভুলে যাবে……
সত্য নামক অহংকার কি তা জানবে না।
এই খোকা খারাপ লাগছে বুঝি?
আরে খোকা,
এসব দুঃখের একেকটা তলা,
বহুতল পেরিয়েই দেখা মেলে;
সুখের ছাদনাতলা!
শুন খোকা বাড়ি আসবি কবে?
আচলে হাত মুছার দরুণ গন্ধটা আর নেই রে,
ভুলে গেছিস? আচল দিয়ে হাত মুছবি না?
তোর বাবা অনেক গুলা মাছ পেয়েছে কাল
শুটকি করেছি, শুটকি তোর ভালো লাগে!
খাওয়া শেষে হাতটা আমার আচলে মুছবি,

গন্ধটা অনেক দিন রয়ে যাবে…..

Tagged : / /